আবারো দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বাংলাদেশের। মালদ্বীপের জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে লাল-সবুজের তরুণরা। এই ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছে দুই প্রবাসী ভাই রোনান ও ডেক্লান সুলিভান, যাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ফাইনাল ম্যাচে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই বাংলাদেশের তরুণরা দেখায় অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা। শেষ শটে রোনান সুলিভান পানেনকা স্টাইলে বল জালে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। তার এই শট শুধু ম্যাচের ভাগ্যই নির্ধারণ করেনি, বরং বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
ডেক্লান সুলিভানও ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে তিনি খেলার গতি বাড়িয়ে দেন এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণ সাজান। দুই ভাইয়ের সমন্বয় আক্রমণভাগে প্রাণ সঞ্চার করে, যা শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে দলের জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল। এর আগে ২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়ে প্রথমবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিল।
মালদ্বীপে আয়োজিত এবারের আসরে সাতটি দেশ অংশ নেয়। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের তরুণরা দেখিয়েছে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও কৌশলগত দক্ষতা। কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা, বিশেষ করে বিদেশে বেড়ে ওঠা খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি, দলের মান বাড়িয়েছে।
এই জয় উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুটবলপ্রেমীরা রাস্তায় নেমে আসে। রাজধানী ঢাকায় তরুণদের উল্লাসে মুখরিত হয় বিভিন্ন এলাকা। বাফুফে সভাপতি ও কোচ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই জয় প্রমাণ করে আমাদের তরুণরা আন্তর্জাতিক মানে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।”
প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। সুলিভান ভাইদের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা শুধু মাঠে পারফরম্যান্সই দিচ্ছেন না, বরং তরুণদের মধ্যে নতুন অনুপ্রেরণা জাগাচ্ছেন।
logo-1-1740906910.png)