Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

বাড়ছে যুদ্ধ খরচ, কমছে অস্ত্রের মজুত; কী করবে আমেরিকা?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩১

বাড়ছে যুদ্ধ খরচ, কমছে অস্ত্রের মজুত; কী করবে আমেরিকা?

ইরানের সস্তা সাইকেল ধ্বংস করতে আমেরিকা ব্যবহার করেছে কোটি টাকার লেম্বারগিনি। এক শাহেদ ড্রোন ধ্বংস করতে গিয়ে মার্কিনিরা ব্যবহার করেছে মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র। আর তাতেই ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম যে খালি হয়ে যাচ্ছে মার্কিনিদের।

যুদ্ধ করতে লাগে টাকা, লাগে বিপুল অস্ত্রের মজুত। ইরানের সাথে যুদ্ধ প্রলম্বিত হওয়ায় এই দুটি নিয়ে আমেরিকা পড়েছে বিপাকে। বাড়ছে যুদ্ধের কারণে বিপুল খরচের ধাক্কা। কমছে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত। তাই তো আমেরিকা-ইসরায়েলের পেটে সংকটের গুড়গুড় শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু জানেন কি? এক মাসের যুদ্ধে কত খরচ করেছে আমেরিকা? আর মিলিয়ন ডলারের কত মিসাইল গচ্চা গেছে?

বিশ্বের নানা গণমাধ্যমের খবর, ইরানের সাথে যুদ্ধে গিয়ে এক মাসে আমেরিকা খরচ করে ফেলেছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনেই খরচ হয় ১১ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধের এক মাস পর এসে আমেরিকার গচ্চা যাচ্ছে দৈনিক ১ বিলিয়ন ডলার। 

একটু সহজ করে ব্যাখ্যা করে বলি। বাংলাদেশের বাৎসরিক বাজেট কম-বেশি ৬৫ থেকে ৬৬ বিলিয়ন ডলার। তার মানে ইরানের যুদ্ধের কারণে আমেরিকা যে অর্থ খরচ করেছে, তা দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশের ৬ মাসের সরকারি ব্যয় চালানো সম্ভব।

এমনিতেই মার্কিন সরকারের ঋণ আছে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার। তার মাঝে যুদ্ধে জড়িয়ে আরো খরচ বাড়াচ্ছে আমেরিকা। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে গভীর খাদে পড়তে যাচ্ছে আমেরিকা। 

আর আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভারের কী অবস্থা? বিশ্বাসযোগ্য বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, যুদ্ধের আগে মার্কিন গোডাউনে ৪ হাজারটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এসব ক্ষেপণাস্ত্র বছরে মাত্র ১০০টি তৈরি করা যায়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর মধ্যে আড়াই হাজার ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করে ফেলেছে আমেরিকা। একই অবস্থা ইসরায়েলেরও। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নিশ্চিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভারে জোগানের সংকটে পড়বে আমেরিকা। 

বিপরীতে এখন পর্যন্ত ইরান ৫ হাজার ২০০ ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন মেরেছে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি আর উপসাগরীয় দেশের নানা স্থাপনায়। একই সঙ্গে দেশটি কম খরচে ধারাবাহিকভাবে নতুন ড্রোন তৈরি ও ব্যবহার করে যাচ্ছে, যা যুদ্ধের কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন চাপ তৈরি করছে।

ইরান-ইসরায়েল বা আমেরিকা কার ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম আগে ফুরায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। যার অস্ত্রের গুদাম আগে ফুরাবে, সে হবে নিরো… বসে বসে বাঁশি বাজিয়ে দেখতে হবে- পুড়ছে নগর আর মরছে মানুষ।

Logo