মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরান বিজয়ী হতে চায় না। শুনতে কি অবাক লাগছে? হ্যাঁ, আর্ন্তজাতিক বিশ্লেষকরা তাই বলছেন। ইরান চায় কেবল টিকে থাকতে।
কিন্তু প্রবল পরাশক্তি ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান কি টিকে থাকতে পারবে? যেখানে ২৯ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বললেন, ইরানের তেল আর হরমুজের খার্গ দ্বীপ তিনি দখলে নেবেনই। আর সেই লক্ষ্যে সাড়ে তিন হাজার সেনা, সাথে তৃতীয় রণতরী উপসাগরে পাঠিয়েছে মার্কিনিরা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মত, ইরানে স্থল অভিযান শুরু করতে গেলে আমেরিকার লাগবে ১০ লক্ষ সেনা। সাড়ে তিন হাজার সেনা দিয়ে আমেরিকা কীভাবে স্থল অভিযান চালাবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
১ মাসের যুদ্ধ আর পারস্য উপসাগরে তিনটি মার্কিন রণতরীর উপস্থিতির পরও হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাকে ইরানের কৌশলগত বিশাল বিজয় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কিন্তু এভাবে টিকে থেকে ইরানের আর কী কী লাভ হতে পারে?
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে টিকে থাকতে পারে, তাহলে আমেরিকার বিষয়ে মোহভঙ্গ হবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল-সমৃদ্ধ দেশগুলোর। বিশ্ব পরাশক্তি আমেরিকারও যে ক্ষমতার সীমা আছে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতা মারাত্মকভাবে খর্ব হবে মার্কিনিদের। সেখানে ইরান পেতে চায় মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বের আসন। ইরানের অন্যতম চাওয়া এটাই। কিন্তু ইরানের সেই পরিকল্পনা কি বাস্তবায়ন করতে দেবে সৌদি আরব?
ইরান ইতোমধ্যেই দাবি করে বসে আছে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ ট্রিলিয়ন ডলার দিতে হবে আমেরিকাকে। পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। আর যদি তাই হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ধসে পড়বে পেট্রো ডলারের সাম্রাজ্য, উপসাগরীয় দেশগুলো পরিণত হবে ইরানের খদ্দেরে। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়াইটা সেখানেও।
কেবল ক্ষতিপূরণ নয়, হরমুজে চলাচলের জন্য ১০ শতাংশ ফি ধার্জ করতে পারে ইরান। তাতে বছরে ৮০০ বিলিয়ন ডলার আয়ের স্বপ্ন দেখছে দেশটি। আর তাতে আখেরে লাভ হবে ইরানেরই।
কিন্তু প্রবল পরাশক্তি আমেরিকা-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে ইরান? আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধে ইরান হারবে না; তেমনি আমেরিকাও এই যুদ্ধে জয়ী হবে না। আর অমীমাংসিত এই যুদ্ধ থেমে গেলে সম্পূর্ণভাবে পাল্টে যাবে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি।
logo-1-1740906910.png)