Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিপুল সংখ্যক প্রবাসী

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৬

ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিপুল সংখ্যক প্রবাসী

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিদেশগামী প্রবাসী যাত্রীরা। যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হওয়ায় অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকে সকালে এসে গভীর রাত পর্যন্তও নিশ্চিত হতে পারছেন না আদৌ সেদিন তাদের ফ্লাইট ছাড়বে কিনা। প্রথম আলো অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ফ্লাইট বিলম্ব নয়, সঠিক তথ্যের অভাব, বসার অপ্রতুল ব্যবস্থা, প্রচণ্ড গরম, মশার উপদ্রব এবং স্বজনদের নিয়ে দীর্ঘসময় অনিশ্চয়তায় থাকার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।  

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিমানবন্দরে দেখা যায়, বিদেশগামী যাত্রী ও তাদের স্বজনরা উদ্বিগ্নভাবে অপেক্ষা করছেন। কারো হাতে লাগেজ, কারো চোখে মুখে ক্লান্তি, কারো কণ্ঠে ক্ষোভ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমজীবী প্রবাসীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছিল বেশি। তারা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্ধারিত সময় সামনে রেখে দেশে পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে ফিরছিলেন, কিন্তু বিমানবন্দরে এসে পড়েছেন নতুন অনিশ্চয়তায়।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে আসা জহির মিয়া জানান, তার নির্ধারিত ফ্লাইট ছিল সন্ধ্যা ৭টায়। বিকেল ৪টার মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে বলা হলেও তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিকেল ৩টার মধ্যেই এসেছেন। কিন্তু রাত গড়ালেও ফ্লাইটের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমাদের বলা হচ্ছে থাকলে থাকেন, না হলে চলে যান। কিন্তু আমরা যাব কোথায়?”  

যাত্রীদের অভিযোগ, ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলের বিষয়ে সময়মতো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। কেউ কাউন্টার থেকে এক ধরনের তথ্য পাচ্ছেন, আবার কিছুক্ষণ পর সেটি বদলে যাচ্ছে। এতে করে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ আরও বাড়ছে।  

অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অনেকেই জানান, দীর্ঘসময় বসে থাকার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। কেউ মেঝেতে বসে, কেউ দাঁড়িয়ে, কেউবা লাগেজে হেলান দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরম ও মশার উপদ্রব তাদের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।  

গালফ এয়ারের এক যাত্রী জানান, তার বিশেষ ফ্লাইটটি দাম্মাম থেকে না আসায় বাতিল হয়ে যায়। তিনি বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল নির্দিষ্ট সময়ে ফ্লাইট ছাড়বে। কিন্তু পরে জানানো হলো, দাম্মাম থেকে ফ্লাইটটি না আসায় আর উড্ডয়ন সম্ভব হচ্ছে না।”  

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক রুটে বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮টি ফ্লাইটের মধ্যে ৭৯৭টি বাতিল হয়েছে।  

যাত্রীদের দাবি, ফ্লাইটের সময়সূচি যতটা সম্ভব নিয়মিত রাখা, বিলম্ব বা বাতিল হলে দ্রুত ও সঠিক তথ্য দেওয়া, দীর্ঘসময় অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা, গরম ও মশার উপদ্রব কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য মানবিক সহায়তা ডেস্ক চালু করা জরুরি।

Logo