মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হবে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। মার্চ মাসে এই পথে জাহাজ চলাচল ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, চলমান সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। তিনি দাবি করেছেন, স্থল সেনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা পাঠানোর কথা বিবেচনা করছেন। এদের খারগ দ্বীপের কাছে মোতায়েন করা হতে পারে, যা ইরানের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র।
বাহরাইন তাদের নাগরিকদের সতর্ক করে নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি হামলায় একটি স্থাপনায় আগুন লাগার পর সাইরেন বাজানো হয়েছে।
যুদ্ধের মাঝেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চান ইতিহাসে তাকে “মহান শান্তিদূত” হিসেবে মনে রাখা হোক। তিনি দাবি করেছেন, এর আগে আটটি যুদ্ধ তিনি সমাধান করেছেন। যদিও সমালোচকরা বলছেন, এই দাবি অতিরঞ্জিত।
এক মাসের মধ্যে এই সংঘাতে অন্তত ৪ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়েছে, জ্বালানি বাজারে দাম বেড়ে গেছে ইউক্রেন যুদ্ধের সময়কার সর্বোচ্চ স্তরে। ইরান তাদের ইস্পাত কারখানা ও পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার অভিযোগ করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)