Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

উদ্বেগ ও আতঙ্কে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের ঈদ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ২৩:৪৩

উদ্বেগ ও আতঙ্কে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের ঈদ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এবারের ঈদ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হয়ে উঠেছে আতঙ্কের উৎসব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার পর থেকে পুরো অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতের ভয় ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে থাকা প্রায় ৫০ লাখ বাংলাদেশি আতঙ্কের মধ্যে ঈদ উদযাপন করছেন।  

কাতারের আল-শাহনিয়া শহরে কর্মরত কবীর (ছদ্মনাম) জানান, এবার ঈদের কোনো আমেজ নেই। প্রতিদিনই পুলিশ এসে সতর্ক করছে, এমনকি কর্মস্থলে অ্যালার্ম বাজলে কীভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে, সে নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের শহরের কাছেই বোমা হামলা হয়েছে। কখনো দিনে দুই-তিনবার হামলা হয়েছে। টানা ১০ দিন ঘরে থাকতে হয়েছে।” ফলে ঈদের দিন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার বা শহর ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ নেই। নিরাপত্তার কারণে এবার খোলা মাঠে নয়, মসজিদের ভেতরেই ঈদের নামাজ পড়তে হবে।  

কুয়েতে প্রবাসী আজিজ আহমেদ (ছদ্মনাম)ও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। নরসিংদীর এই প্রবাসী দেশে ফেরার টিকিট কেটেছিলেন, কিন্তু যুদ্ধের কারণে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর ফিরতে পারেননি। তিনি বলেন, “প্রশাসন জানিয়েছে এবার বড় ময়দানে ঈদের জামাত হবে না, সবাইকে মসজিদে নামাজ পড়তে হবে।” সাধারণত ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণে যেতেন, কিন্তু এবার তা-ও বন্ধ।  

বাহরাইনেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাজধানী মানামায় ইরানের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রবাসীরা জানিয়েছেন, এখন প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে যাচ্ছেন না। কোথাও জোরে শব্দ হলে আতঙ্ক আরো বেড়ে যায়। এমনকি যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার কারণে অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।  

সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক হলেও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওমানের সোহার শহরে থাকা এক প্রবাসী জানিয়েছেন, তিনি দেশে ঈদ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু যুদ্ধের কারণে ফিরতে পারেননি। যদিও তাঁর এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত, তবুও মানুষের মনে ভয় কাজ করছে। 

বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের সতর্ক করেছে, যেন তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধসংক্রান্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য প্রকাশ না করেন। সৌদি দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।

Logo