Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

হরমুজ নিয়ে বিপাকে ট্রাম্প, পাশে পাচ্ছেন না বন্ধুদের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৬:২৭

হরমুজ নিয়ে বিপাকে ট্রাম্প, পাশে পাচ্ছেন না বন্ধুদের

হরমুজকে তরমুজ ভেবেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মনে করেছিলেন, ধরবেন, তুলবেন এবং নিয়ে চলে যাবেন। কিন্তু সেটা আর হচ্ছে না। ১৭ মার্চ জার্মানি, ইতালি, স্পেন জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের হাত থেকে হরমুজ প্রণালী দখলে নিতে মার্কিন বাহিনীর প্রস্তাবিত অভিযানে তারা যুক্ত হবে না।

বন্ধুদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে হতাশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বললেন, তার কারো প্রয়োজন হবে না। কোনো বন্ধুও লাগবে না, যা করার একাই করবে আমেরিকা। কারণ আমেরিকাই বিশ্বের শক্তিশালী জাতি, তাদের সামরিক বাহিনীও বিশ্বসেরা।

আমেরিকার সঙ্গে যে ব্রিটেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইরাক যুদ্ধে ছিল, ইরান ইস্যুতে তারাও এখন দোদুল্যমান। তাই ব্রিটিশদের নিয়েও খুশি নন ট্রাম্প। কারণ যখন দরকার ছিল, তখন এই যুদ্ধে ব্রিটিশ বন্ধুদের কাছ থেকে কিছুই পাননি তিনি।

ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ইরানকে বশ করা যেমন ইসরায়েল ও আমেরিকার জন্য কঠিন হয়ে উঠছে, তেমনি তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও আর আগের মতো কথা শুনছে না। তাহলে ইরান কী করছে?

অন্যদিকে, ‘বিনাযুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনী’- এমন ইস্পাত-কঠিন সংকল্প নিয়ে হরমুজে অবস্থান ধরে রেখেছে ইরান। দেশটি যে অবরোধ জারি রেখেছে হরমুজ প্রণালীতে, তা সহসা খুলতে পারছে না কোনো আন্তর্জাতিক শক্তি। ইসরায়েল-মার্কিন হামলার জবাবে এখন হরমুজে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও মাইন নিয়ে অবস্থান করছে ইরান। ফলে বিশ্বের জ্বালানি তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ হয়ে উঠেছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু ইরান কীভাবে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ হলো ইরান ও ওমানের মাঝখানে মাত্র দুই নটিক্যাল মাইলের সরু জলপথ। চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরানের পাহাড়ঘেঁষে বাঁক নিয়ে যেতে হয়। তাই এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল আটকে দেওয়া বা নিয়ন্ত্রণে রাখা ইরানের জন্যই বেশি সুবিধাজনক।

অন্যদিকে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে বিকল্প পথ তৈরির চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা পুরোপুরি সফল না হওয়ায় জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য হরমুজের কার্যকর বিকল্প এখনো নেই উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর কাছে।

আর তাই মহাপরাক্রমে আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করলেও, হরমুজের কারণে ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘাম ঝরছে। আর মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই চলে যাচ্ছে ইরানের হাতে।

Logo