Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

যুদ্ধের ধাক্কা: ঈদে দেশে ফেরার আশাভঙ্গ প্রবাসীদের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২৫

যুদ্ধের ধাক্কা: ঈদে দেশে ফেরার আশাভঙ্গ প্রবাসীদের

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঢাকার অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফলে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসীর স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।  

যাদের ভালো বেতনের চাকরি আছে বা দেশে জরুরি সমস্যা রয়েছে, তারা বিকল্প পথে বেশি টাকা খরচ করে দেশে ফিরছেন। কিন্তু বেশির ভাগ প্রবাসী যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বাড়তি খরচের কারণে দেশে ফেরার কথা ভাবতেই পারছেন না।  

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বসবাসকারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমন জানান, তিনি ১৬ মার্চের জন্য গালফ এয়ারের একটি টিকিট কিনেছিলেন। কিন্তু মানামা থেকে ঢাকায় কোনো ফ্লাইট না থাকায় তাকে পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণত মানামা থেকে ঢাকা যাওয়া-আসার ভাড়া ২৫০ বাহরাইনি দিনার (প্রায় ৮০ হাজার টাকা)। কিন্তু এখন রিয়াদ হয়ে ঢাকায় একমুখী টিকিটের দামই ৩০০ দিনার (প্রায় ৯৭ হাজার টাকা)।  

ইমন আরো জানান, যুদ্ধের প্রভাবে তার পোশাক ও বিমান টিকিট ব্যবসার বিক্রি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তিনি এখন গালফ এয়ার থেকে টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছেন।  

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান ও লেবাননে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা শুরু করে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এসব দেশ তাদের আকাশসীমা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে।  

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ১৩ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের রুটে নির্ধারিত ৮৯৫টি ফ্লাইটের মধ্যে প্রায় ৪৪৭টি বাতিল হয়েছে। এ সময় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে চারজন বাংলাদেশি। আহত হয়েছেন ২০০ জনের বেশি, তাদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি।  

মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন এবং তারা দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।  

বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার জানান, হামলার কারণে মানুষ আতঙ্কে আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফেরার জন্য একটি চার্টার ফ্লাইটের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তবে এর ভাড়া বেশি হওয়ায় পর্যাপ্ত সাড়া পাওয়া যায়নি।  

কাতারে বাংলাদেশ মিশনের এক কর্মকর্তা জানান, দোহা থেকে ঢাকায় কিছু ফ্লাইট চলছে, তবে সংখ্যা অনেক কমে গেছে। সাধারণত ঈদের সময় যাত্রী বেশি থাকে, কিন্তু এবার পরিস্থিতি উল্টো।  

লেবাননে হিজবুল্লাহ অধ্যুষিত এলাকায় ইসরায়েলের হামলার কারণে সেখানকার বাংলাদেশিদের দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। বৈরুতের উপকণ্ঠে বসবাসকারী কয়েক হাজার বাংলাদেশি আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।  

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশ্রয়কেন্দ্র ও খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। এখনই দেশে ফেরানোর কথা ভাবা হচ্ছে না, তবে প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় তা করা হবে।

Logo