ইরানকে শক্ত হাতে দমনের হুমকি দিলেও চলমান যুদ্ধ নিয়ে এক ধরনের বেকায়দায় পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড যুক্তরাষ্ট্রে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ওয়াশিংটনের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন মার্কিন প্রশাসন। একই সঙ্গে দেশটির সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশও এই যুদ্ধে আর সমর্থন দিচ্ছে না বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের পরপরই দ্রুত ফল পাওয়ার আশা করলেও এখনো ইরানকে নতি স্বীকার করানো সম্ভব হয়নি। ব্যাপক হামলার পরও ইরানের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকায় বিস্মিত মার্কিন প্রশাসন।
এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অনেকটাই অর্জিত হয়েছে এবং তার মতে যুদ্ধ শিগগিরই শেষের দিকে যেতে পারে। চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাত সেনা এবং ইসরায়েলে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানে নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে দেশটির সামরিক বাহিনীর মনোবল অটুট থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কৌশলগত দোটানায় পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, তারা ইরানের সঙ্গে অন্তহীন যুদ্ধ চান না। তবে সংঘাত কবে শেষ হতে পারে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি।
এদিকে সংঘাতের মধ্যেই ইসরায়েলের দিকে ‘খায়বার শেকান’ নামের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে ইরান। তেল আবিব ও হাইফা শহর লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও। ইরান হরমুজ প্রণালীতে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ওই প্রণালীতে মাইন পুঁতে রাখার খবরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ সংক্ষিপ্ত করে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজছে, তবু তেহরান বলছে ভিন্ন কথা। ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, তারা এই যুদ্ধ শুরু করেনি; কিন্তু যুদ্ধ কবে শেষ হবে তা নির্ধারণ করবে ইরানই।
logo-1-1740906910.png)