Logo
×

Follow Us

বিশ্ব

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে দুর্বিষহ হয়ে উঠবে মানুষের জীবন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩৩

হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে দুর্বিষহ হয়ে উঠবে মানুষের জীবন

ছবি - এআই দিয়ে বানানো

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ তীব্র হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত থমকে গেছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। ভারত থেকে ওষুধ, এশিয়া থেকে যন্ত্রাংশ কিংবা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার; সব ধরনের পণ্য পরিবহনই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শত শত জাহাজ আটকে আছে উপসাগরে, অনেক জাহাজকে আবার আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন, এই হরমুজ প্রণালী এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? 

কারণ এই সরু জলপথই বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে বিশ্ববাজারে যায়, যা বিশ্ব তেল ব্যবহারের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। বিশ্বের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসেরও বড় অংশ এই পথেই পরিবাহিত হয়। তাই এই পথ বন্ধ বা অচল হয়ে গেলে পুরো বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কা লাগে।

হরমুজ প্রণালী কোথায় এবং কেন এটিকে এত গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়? 

ইরানের উত্তরে এবং ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দক্ষিণে অবস্থিত এই জলপথ পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করেছে আরব সাগরের সঙ্গে। সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত। আর এই জলপথ দিয়েই সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, আমিরাত ও ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলো চলাচল করে। অর্থাৎ উপসাগরীয় তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়েই সারা  বিশ্বে পৌঁছে যায়।

বর্তমান কী পরিস্থিতি? পথটি কি সত্যিই বন্ধ?

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি ভীষণ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক জাহাজ হামলার ঝুঁকিতে চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে। সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ১০০ তেলবাহী জাহাজ এই জলপথ পাড়ি দেয়। কিন্তু এখন অনেক জাহাজ আটকে আছে উপসাগরে এবং শত শত নাবিক কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে পড়েছেন। বিশ্বের বড় বড় নৌপরিবহন কোম্পানিও এই পথে চলাচল সাময়িক বন্ধ করে রেখেছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব কি শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ?

এককথায় না। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়, ফলে খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘদিন যদি এই পরিস্থিতি চলে, তবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। 

তাহলে সামনে কি অপেক্ষা করছে?

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাড়বে সব কিছুর দাম। বিশ্ব অর্থনীতির মতো গবির দেশের মানুষের জীবন হরমুজ বন্ধের কারণে দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থা সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও এক মাস বা তার বেশি সময় যদি এই পথ বন্ধ থাকে, তাহলে তেলের দাম তিন অঙ্ক ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে। তাই এখন সবার চোখ যুদ্ধ কত দ্রুত থামে এবং হরমুজ প্রণালী আবার কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়; সেদিকেই।

Logo