নিজের ধর্ম সনাতন, কিন্তু মুসলমানদের প্রতি সম্মান জানিয়ে রোজা রাখেন। আর দুবাইয়ে বসবাস করতে গিয়ে গত ২৩ বছর ধরে নিয়মিত এই কাজটি করে আসছেন তিনি।
তার নাম সতীশ কুমার। ২০০২ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বসবাস করছেন এই প্রবাসী। ধর্মে হিন্দু হলেও পবিত্র রমজান মাসে মুসলিমদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে তিনি নিয়মিত রোজা পালন করেন। শুরুটা ছিল আশপাশের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা থেকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলনে পরিণত হয়েছে।
গালফ নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে সতীশ কুমার বলেছেন, রোজা শুধু শারীরিক কষ্টের বিষয় নয়; এটি আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মশুদ্ধির এক অনুশীলন। সারাদিন না খেয়ে থাকা, পানাহার থেকে বিরত থাকা এবং খারাপ আচরণ থেকে নিজেকে দূরে রাখা মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে।
তার মতে, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অনুভূতি মানুষকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কষ্ট বোঝাতে সাহায্য করে। এতে মানুষের মধ্যে দানশীলতা ও সহানুভূতির মনোভাব আরো শক্তিশালী হয়।
৫৬ বছর বয়সী সতীশ কুমার আরো বলেন, রোজা মানুষের শরীরের জন্যও উপকারী হতে পারে। দীর্ঘ সময় না খাওয়ায় হজম প্রক্রিয়া কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং মনোযোগও বাড়ে। কর্মক্ষেত্রেও তিনি এই সময় নিজেকে আরো মনোযোগী ও কর্মক্ষম বলে অনুভব করেন।
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য পবিত্রতম মাস। তবে সতীশ কুমারের মতো একজন ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর কাছে এটি মানবিকতা, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ সময় হয়ে উঠেছে। তার এই দীর্ঘ ২৩ বছরের অনুশীলন প্রমাণ করে, ধর্ম ভিন্ন হলেও মানবিক মূল্যবোধ মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে রাখতে পারে।
logo-1-1740906910.png)