সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৫ মার্চ ২০২৬ অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে তারেক রমহান সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে আমিরাতের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশটির গৃহীত সব পদক্ষেপের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন ব্যক্ত করেন তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (WAM) জানিয়েছে, ফোনালাপের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমিরাতের ওপর হওয়া ‘নির্লজ্জ’ হামলার প্রতিবাদ জানান। এর জবাবে আমিরাত রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বাংলাদেশের এই দৃঢ় ও সহযোগিতামূলক অবস্থানের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই আলাপচারিতা বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে।
ফোনালাপে উভয় নেতা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা একমত হন যে, এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে তা কেবল এই অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ পরিণাম বয়ে আনবে বলে তারা সতর্ক করেন। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের ওপর এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।
দ্বিপক্ষীয় এই আলোচনায় সামরিক শক্তির চেয়ে কূটনীতি এবং সংলাপের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ উভয়ই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, যে কোনো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আলোচনা এবং কূটনৈতিক পন্থাই সর্বোত্তম মাধ্যম। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মরত রয়েছেন, যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের জন্য একটি বড় অগ্রাধিকার। এই ফোনালাপের মাধ্যমে প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং আমিরাতের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুসংহত হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
logo-1-1740906910.png)