Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে নাগরিকদের সরে যেতে বলল আমেরিকা, ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৬

মধ্যপ্রাচ্য থেকে নাগরিকদের সরে যেতে বলল আমেরিকা, ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি দেশ থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরে যেতে বলল। আমেরিকা, সৌদি মার্কিন দূতাবাসে ইরানি ড্রোন হামলা, হরমুজে বন্ধ থাকা জাহাজ চালানোর চেষ্টা করলে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিল ইরান। তৃতীয় দিনের মতো ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। 

যুদ্ধের পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় তেহরানের হামলা অব্যাহত থাকায় সংঘাত ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন ছুড়েছে ইরান। ইসরাযেলের ডিফেন্স ফোর্স এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, ইরান আর তার প্রক্সি ফোর্সের হামলার আশঙ্কায় ২ মার্চ রাতে গোটা ইসরায়েলে বেজে ওঠে সাইরেন। ইসরায়েলের নাগরিক আর বাসিন্দাদের বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বলা হয়। ঘর থেকে বের হতেও বাসিন্দাদের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ১‍ মার্চে মধ্য তেলআবিবে আঘাত হেনেছে ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।  

লেবানন থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর দিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট। ড্রোন হামলার খবরও দিয়েছে হারিৎস। তাদের প্রকাশ করা ছবিতে এসব হামলায় মধ্য ইসরায়েলের নানা স্থাপনায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। যদিও এসব খবর প্রত্যাখ্যান করেছে আইডিএফ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত মধ্য ইসরায়েলে বেইত শেমেশ শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শহরটিতে ১১ জন নিখোঁজ এবং ৪৫ জন আহত হয়েছে। যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটিতে ছুটে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তারা আকাশেই ধ্বংস করছে। তারপরও ইরানের ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের ভীতি পেয়ে বসেছে সাধারণ ইসরায়েলিদের।

এদিকে, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট খবর দিয়েছে, ইসরায়েল তেহরানের রাস্তায় বসানো ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করে ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির গতিবিধি, তার দৈনন্দিন জীবন, চলাফেরা দেখছিল। এর মধ্যে ছিল তার যাতায়াতের পথ, সক্রিয় থাকার সময়সূচি এবং সাধারণত কোন কোন জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি তার সঙ্গে থাকতেন; এসব তথ্য।

এছাড়া মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ অতিরিক্ত একটি মানব সূত্র সরবরাহ করে, যা হত্যার দিন খামেনি ঠিক কোথায় অবস্থান করবেন, তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে ওই এলাকার সেলুলার টাওয়ারগুলো অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে নিরাপত্তা সদস্যদের ফোনে সতর্কবার্তা পৌঁছাতে না পারে।অভিযানটিতে সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্স, সেলুলার নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ এবং মার্কিন মানব সূত্রের মাধ্যমে বৈঠক চলমান থাকার নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত ছিল। খামেনিকে হত্যাকাণ্ডের আগে নির্ভুলভাবে তার অবস্থান শনাক্ত করে ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল-মার্কিন বাহিনী। 

অন্যদিকে, সৌদির রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাতে সৌদিতে মার্কিন দূতাবাসের কম্পাউন্ডে দুটি ড্রোন আঘাত করে। হামলায় প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর দিয়েছে সৌদি গেজেট।এই হামলার জেরে ইরান-মার্কিন সংঘাত যে আরো তীব্র হবে তা বলা বাহুল্য। 

সৌদিতে মার্কিন দূতাবাসে এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি সামান্য হলেও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি অনেক বেশি। যার ফলশ্রুতিতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি দেশ থেকে থেকে তাদের নাগরিকদের এখনই চলে যেতে বলেছে আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ২ মার্চ এই নির্দেশনা জারি করে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সৌদির মার্কিন দূতাবাসে হামলার কারণে তৈরি হয়েছে তীব্র নিরাপত্তা হুমকি। অনেক দেশে মার্কিন নাগরিকদের ‘ডিপোর্ট নাউ’ বার্তা দিচ্ছে মার্কিন দূতাবাস।

কিন্তু যুদ্ধের এই সময়ে যখন বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে, সেখানে কীভাবে মার্কিন নাগরিকরা এসব দেশগুলো ছেড়ে যাবেন, তা পরিষ্কার নয়। এদিকে ইরানি হামলার ভয়ে কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন নাগরিকরা পড়েছেন নজিরবিহীন নিরাপত্তা সংকটে। 

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশের মার্কিন স্থাপনায় একের পর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে দিশেহারা করে দিচ্ছে ইরান।বাহরাইনে থাকা মার্কিন বিমান ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়ার খবর দিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। বাহরাইনের শেখ ঈসা এলাকায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমানঘাঁটির কমান্ড ও স্টাফ ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলায় ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকেও ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এনিয়ে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি এখনো আসেনি। 

একই সাথে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। বন্ধ করে দিয়েছে হরমুজে সব রকম জাহাজ চলাচল। যার কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর আশপাশে প্রায় ১৫০টি জাহাজ আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে। বন্ধ হরমুজ প্রণালী পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলে জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যারা এই পথে জাহাজ চালানোর চেষ্টা করবে, তাদের জাহাজ জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। ইরান বলছে, আমেরিকানদের ওপর লক্ষ কোটি ডলারের ঋণের বোঝা রয়েছে এবং তারা এই অঞ্চলের তেলের জন্য তৃষ্ণার্ত। কিন্তু এখান থেকে এক ফোঁটা তেলও পাবে না আমেরিকা। 

বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় পাঁচ ভাগের একভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। হরমুজ প্রণালী ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত। এটি উত্তরের উপসাগরকে দক্ষিণের ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তেলের আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ বন্ধের হুমকি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যার ভুক্তভোগী হবে দক্ষিণ এশিয়াসহ দুনিয়ার নানা প্রান্তের মানুষ।

Logo