দেশজুড়ে ব্যাংকগুলোর রেমিট্যান্স উৎসব, উপহারের ছড়াছড়ি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৩
পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বৈধ পথে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় উৎসাহিত করতে দেশের সরকারি ও ণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠাতে এবং গ্রাহকসেবা আরো গতিশীল করতে ব্যাংকগুলো ঘোষণা করেছে নানা আকর্ষণীয় অফার ও বিশেষ সেবা মাস।
মূলত প্রবাসীদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতেই ব্যাংকগুলো এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। সরকারি ব্যাংকের মধ্যে কৃষি ব্যাংক , অগ্রণী ব্যাংক আর বেসরকারি ব্যাংকগুলো মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক ইদ উপলক্ষে নিয়েছে নানান কর্মসূচী।
প্রবাসীরা যেন তাদের পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ পূর্ণভাবে ভাগাভাগি করে নিতে পারেন, সে জন্যই ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংকের মাসব্যাপী ভিন্ন ভিন্ন উপহার আয়োজন শুরু হয়েছে হয়েছে । এসব ব্যাংকগুলি দেশজুড়ে তাদের বিশাল শাখা ও উপশাখা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুত, নিরাপদ এবং সহজ উপায়ে প্রবাসীদের পাঠানো টাকা গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমাতে এবং সেবার মান বাড়াতে প্রতিটি আউটলেটে এখন থেকে পৃথক ‘রেমিট্যান্স সার্ভিস ডেস্ক’ কার্যকর থাকবে, যেখানে গ্রাহকরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা পাবেন।
দেশের বাণিজ্যিক ও সরকারি ব্যাংকগুলোও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য উপহারের ডালা সাজিয়ে বসেছে। অনেক ব্যাংক এখন রেমিট্যান্সের ওপর সরকারি আড়াই শতাংশ প্রণোদনার পাশাপাশি নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত আরো আড়াই শতাংশ পর্যন্ত নগদ বোনাস দিচ্ছে। কিছু ব্যাংক আবার রেমিট্যান্স গ্রাহকদের জন্য ড্রয়ের মাধ্যমে স্মার্টফোন, ফ্রিজ, টেলিভিশন এমনকি মোটরসাইকেল জেতার সুযোগও ঘোষণা করেছে।
কৃষি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ মুহূর্তের মধ্যে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। বিশেষ করে রমজানে ইফতার সামগ্রী বিতরণ এবং ঈদের আগে বিশেষ গিফট ভাউচার প্রদানের মতো কার্যক্রমগুলো সাধারণ গ্রাহকদের ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করতে দারুণভাবে উৎসাহিত করছে।
ব্যাংকগুলোর এমন প্রতিযোগিতামূলক অফার এবং আন্তরিক সেবা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো এই বাড়তি অর্থ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার করে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর কেনাকাটার সক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। মূলত ব্যাংকগুলোর এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও উপহারের ছড়াছড়ি রেমিট্যান্স প্রবাহকে একটি আনুষ্ঠানিক উৎসবে রূপান্তর করেছে।
logo-1-1740906910.png)