মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রমজান উপলক্ষে আমিরাতের জেল থেকে মুক্ত ১৪৪০ জন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫৭
বাহরাইন
বাহরাইনে রমজানে প্রকাশ্যে খেলে জেল-জরিমানা
বাহরাইনে রমজান মাসে প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়াকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন এই ঘোষণা দিয়েছে। যারা প্রকাশ্যে রোজা ভেঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করবে, তারা এক বছরের জেল বা সর্বোচ্চ ১০০ বাহরাইনি দিনার জরিমানা বা উভয়ই দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এই কঠোর নিয়মের লক্ষ্য হলো রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সবাইকে রমজানের ঐতিহ্য ও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সবাইকে ঐতিহ্য ও আইন মেনে চলা নাগরিক ও বাসিন্দাদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই নিয়মটি বাহরাইনে রমজানের পবিত্র উদ্দেশ্য ও আচার- অনুষ্ঠানকে সম্মান করার জন্যই আরোপিত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
রমজান উপলক্ষে আমিরাতের জেল থেকে মুক্ত ১৪৪০ জন
সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান মাস উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কারাগার থেকে ১ হাজার ৪৪০ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নির্দেশে বন্দিরা মুক্তি পেয়েছেন। একই সাথে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক জরিমানা বা অন্যান্য আর্থিক দায়ও সরকারের পক্ষ থেকে নিষ্পত্তি করা হবে, যাতে জেলে থাকা অপরাধীরা মুক্ত হয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারে।এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো পবিত্র রমজানের সময়ে দয়া, আন্তরিকতার মানসিকতা প্রচার করা। বন্দিদের মধ্যে ১৩৪ জন আজমান থেকে, ১২৫ জন ফুজাইরাসহ বাকিরা বিভিন্ন জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ ধরনের বন্দিদের মুক্তির সিদ্ধান্ত রমজান ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের সময় নিয়মিতভাবে করা হয়। তবে মুক্তি পাওয়াদের মধ্যে কোনো প্রবাসী আছেন কিনা, তা জানা না গেলেও আমিরাতের সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে বন্দিদের মধ্যে যারা ভালো আচরণ করেছে, তারাই মুক্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। তবে অনেক শর্ত পূরণের ভিত্তিতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আমিরাতের প্রেসিডেন্টের এমন উদ্যোগকে রমজান মাসে সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করার পাশাপাশি বন্দিদের সমাজে আবার সম্পৃক্ত হওয়া ও নতুন করে জীবনযাত্রা শুরু করার বিষয়েও সহায়তা করে।
কুয়েত
কুয়েতের আইন অমান্য, ১৪ প্রবাসী আটক
কুয়েত সিটির জাবের আল-আহমদ আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত হোমভিত্তিক মুদি দোকানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে রাজধানী গভর্নরেট সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট। দেশটির জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পরিচালিত এ অভিযানে ১৪ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের আগে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো হয়। পরে দেখা যায়, ব্যক্তিগত বাসা ব্যবহার করে লাইসেন্স ছাড়া মুদি দোকান চালানো হচ্ছে। অভিযানে দেখা যায়, ১৪ জন কর্মী এসব অবৈধ দোকানে বসবাস ও কাজ করছিলেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন ডেলিভারি কর্মীও ধরা পড়েন, যারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে অবৈধভাবে পণ্য কাস্টমারদের কাছে সরবরাহ করছিলেন। অভিযানে সাতটি লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক স্থানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল খাদ্যপণ্যও উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, কিছু বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছিল, যা বাণিজ্যিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব প্রবাসীর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অনুমতি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা, অস্বাস্থ্যকর বা ভেজাল খাবার বিক্রি, ভোক্তার জন্য অনুপযুক্ত পণ্য সরবরাহ, সঠিক পুষ্টি লেবেল না দেওয়া এবং বৈধ স্বাস্থ্য সনদ ছাড়া কর্মী নিয়োগের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সৌদি আরব
সৌদিতে ওমরাহ হাজিদের টিকা নেওয়ার পরামর্শ
সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রমজান মাসে পবিত্র ওমরাহ করতে আসা হাজিদের জন্য মেনিনজাইটিস ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। রমজানে ওমরাহর ভরা মৌসুমে পবিত্র নগরী মক্কায় জনসমাগম বেশি হওয়ায় সেই সময় যে কোনো রোগের সংক্রমণের হার বেশি হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার তাদের অফিসিয়াল একাউন্টে জানায়, পাবলিক প্লেসে মানুষ জড়ো হওয়ায় বিশেষত শ্বাসপ্রশ্বাসের রোগের সংক্রমণ বাড়লে মেনিনজাইটিস রোগের যে ঝুঁকি থাকে, সেটি কমাতে ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেনিনজাইটিস এমন একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যার চিকিৎসা না হলে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা ওমরাহ করতে চান, তাদের ওমরাহ শুরু করার কমপক্ষে ১০ দিন আগে এই মেনিনজাইটিস ভ্যাকসিন নিতে হবে, যাতে শরীরে রোগের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। ভ্যাকসিন নিতে হলে আগেভাগে সেহাতি অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা এবং নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন ক্লিনিকে গিয়ে ভ্যাকসিন নিতে পারবেন হাজিরা। এই ভ্যাকসিন নেওয়ার মাধ্যমে যাত্রী নিজের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে এবং একই সাথে অন্যদের মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে, ফলে ওমরাহ কার্যক্রমটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পালন করা সম্ভব হবে।
logo-1-1740906910.png)