বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর তিনি গত ডিসেম্বর দেশে ফেরেন মায়ের মৃত্যুতে। এরপর দ্রুতই দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। মালয়েশিয়ান দৈনিক দ্য স্ট্রেইট টাইমস বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ বিষয়ক এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়া দুজনই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ রাজনীতির নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ২০২৪ সালের "মনসুন বিপ্লব" আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট আমূল বদলে যায়।
নতুন সরকারকে এখন ব্যাপক রাজনৈতিক সংস্কার ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতি। মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং কর্মসংস্থানের ঘাটতি মোকাবিলা করা জরুরি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনও তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ছে।
বাংলাদেশের জনগণ এখন পরিবর্তনের প্রত্যাশায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের পর তারা চায় নতুন সরকার বাস্তবসম্মত সংস্কার আনুক। বিশেষ করে শ্রমবাজার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনীতি আর আগের মতো থাকবে না। বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকারকে প্রমাণ করতে হবে তারা কেবল ক্ষমতায় আসার জন্য নয়, বরং জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করছে। যদি তারা ব্যর্থ হয়, তবে আবারো অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে সফল হলে বাংলাদেশ নতুন এক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।
logo-1-1740906910.png)