Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রেমিট্যান্সে বড় বাধা ভিসা জটিলতা, বাড়ছে হুন্ডির ব্যবহার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৫

রেমিট্যান্সে বড় বাধা ভিসা জটিলতা, বাড়ছে হুন্ডির ব্যবহার

বাংলাদেশে প্রবাসী আয় ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১ হাজার ২৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ডলার বেশি। জানুয়ারিতে রেকর্ড ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনেই এসেছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।  

তবে এই ইতিবাচক প্রবাহের মাঝেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিসা জটিলতা। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে বৈধ ভিসা ছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো যাচ্ছে না। ফলে অনেক বাংলাদেশি কর্মী বাধ্য হচ্ছেন হুন্ডি বা অবৈধ পথে টাকা পাঠাতে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং প্রবাসী আয়ের একটি বড় অংশ বৈধ পথে আসছে না।  

প্রবাসীরা বলছেন, বৈধ কর্মীরা সহজেই ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে পারলেও অনিয়মিত বা কাগজপত্রবিহীনদের জন্য পথ বন্ধ। ব্যাংকগুলো আয়ের বৈধ উৎস জানতে চায়, আর এ জন্য প্রয়োজন হয় আইডি ও ভিসার প্রমাণ। উদাহরণ হিসেবে গ্রিসে একজন প্রবাসী বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ইউরো পাঠাতে পারেন, আর একদিনে সীমা ৪ হাজার ইউরো।  

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কিছু দেশে আবার বেতনের সঙ্গে রেমিট্যান্স পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। সাধারণ কর্মীদের জন্য ব্যাংক লেনদেনে সীমাবদ্ধতা থাকায় অনেকেই হুন্ডির দিকে ঝুঁকছেন।  

শারজাহ ইসলামিক ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আবদুল করিম শেখ বলেন, বিদেশে যাওয়ার সময়ই শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। ইমিগ্রেশনে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা দরকার। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করবেন, সেসব প্রতিষ্ঠানও আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করবে।  

প্রবাসীরা মনে করেন, যদি কাগজপত্রবিহীন কর্মীদের জন্য পাসপোর্ট বা অন্য কোনো সহজ উপায়ে টাকা পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়, তবে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আরো বাড়বে। এতে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং হুন্ডির ব্যবহার কমে যাবে।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোকে শ্রমিকদের নিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালাতে হবে। দূতাবাসে সেমিনার আয়োজন এবং বিদেশে যাওয়ার আগেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে। 

Logo