ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:১৯
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দ্রুত সংঘাতের দিকে গড়াচ্ছে বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক উপদেষ্টা। ওই উপদেষ্টার বরাতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম এক্সিয়স জানিয়েছে, আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনার গতি আরো বাড়তে পারে। উপদেষ্টার দাবি, দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা এখন ৯০ শতাংশ।
খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরক্ত। তাকে হামলার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হলেও তিনি সেই সতর্কবার্তা কতটা গুরুত্ব দেবেন, তা অনিশ্চিত।
সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান হতে পারে। এই হামলার পরিধি হতে পারে বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী। পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে। ইতোমধ্যে ১৫০টির বেশি মার্কিন সামরিক কার্গো বিমান মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পৌঁছে দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫০টি যুদ্ধবিমান এফ-৩৫, এফ-২২ ও এফ-১৬ এ অঞ্চলে এসেছে।
এদিকে, সমান তালে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আগারচির সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা জ্যারাড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। দুই পক্ষই বলেছে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে মতপার্থক্য এখনো বড়। তেহরান এখনো ওয়াশিংটনের শর্ত মানতে রাজি নয়। তবুও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আরো দুই সপ্তাহ সময় দিতে প্রস্তুত। তবে শঙ্কার কথা হলো, গত বছরের ১৯ জুনও একইভাবে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল ইরানকে। তবে তিন দিন পরই ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ শুরু করে আমেরিকা।
এদিকে, থেমে নেই ইরানের নেতৃত্ব। হরমুজ প্রণালীতে চলছে মহড়া। জেনেভায় দ্বিতীয় দফা আলোচনার দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ চাইলে ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে’ পারে ইরান।
বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো বলছে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে সামরিক প্রস্তুতি ও দুই পক্ষের কড়া বক্তব্য পরিস্থিতিকে ক্রমেই সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)