বাংলাদেশে বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠানে দেশি–বিদেশি প্রায় ১ হাজার ২০০ অতিথি উপস্থিত থাকবেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দিচ্ছেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু ঢাকায় আসতে পারেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেইসহ মোট ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুরে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে। বিকেল ৪টায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। শরিক দলগুলোসহ জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২। প্রায় দুই যুগ পর আবার সরকার গঠন করছে বিএনপি।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টি বিএনপির পক্ষ থেকে ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, অন্যান্য বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও কূটনীতিকরা উপস্থিত থাকবেন।
শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব নতুন সরকারের প্রতি আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)