Logo
×

Follow Us

এশিয়া

এবারো রুদ্ধদ্বারে পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪২

এবারো রুদ্ধদ্বারে পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব

শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব মানেই রঙের উচ্ছ্বাস, আবিরে ভরা ক্যাম্পাস আর দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের ভিড়। কিন্তু এবারও সেই চিত্র দেখা যাবে না। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বসন্ত উৎসব হবে রুদ্ধদ্বারেই। অর্থাৎ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে ক্যাম্পাসে। জনপ্রিয় ভারতীয় দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার আয়োজন করা হবে ‘বসন্ত বন্দনা’। তবে এতে অংশ নিতে পারবেন কেবল বিশ্বভারতীর ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক ও কর্মীরা। বাইরের কারো প্রবেশ থাকবে না। ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাদের দাবি, সবাইকে নিয়ে বসন্ত উৎসব আয়োজন করা সম্ভব নয়। বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। তাই ঘরোয়া পরিবেশেই অনুষ্ঠান হবে।  

বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানিয়েছেন, পরিবেশের কথা মাথায় রেখে এবারো সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান হবে। এমনকি শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাসে বসন্ত বন্দনায় আবিরের ব্যবহারও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে উৎসবের রঙিন আবহ এবারো বাইরে থেকে দেখা যাবে না।  

এই সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হস্তশিল্পী ও হোটেল ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক পর্যটক শান্তিনিকেতনে আসেন। তাদের উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে। কিন্তু রুদ্ধদ্বার উৎসবের কারণে ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন।  

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে শেষবার বসন্ত উৎসবে সর্বসাধারণের প্রবেশ ছিল। তখন বিপুল ভিড় সামলাতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উৎসব সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির কারণে অনুষ্ঠান ছোট করে আয়োজন করা হয়। তারপর থেকে প্রতি বছরই সেই নিয়ম মানা হচ্ছে।  

এবারো বসন্ত বন্দনা হবে সীমিত পরিসরে, আবির ছাড়া। ঐতিহ্য রক্ষার নামে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে উৎসবের প্রাণ হারাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষা করাই তাদের প্রথম দায়িত্ব।

Logo