ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ব্যাপক জয় এবং সরকার গঠনের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইমস একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আসা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে। তবে তার সামনে রয়েছে অর্থনীতি, কূটনীতি, রাজনৈতিক ঐক্য, ইসলামপন্থিদের উত্থান এবং তরুণদের প্রত্যাশা- এই পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বিচারবহির্ভূত গুম ও দমন-পীড়নের ক্ষত এখনো তাজা। সেনাবাহিনী, আদালত, সিভিল সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে তারেক রহমানকে। তিনি নিজেও বলেছেন, প্রতিহিংসা নয়, বরং ঐক্যই হবে তার মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দুই দশকে দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বৈষম্য ও বেকারত্ব জনমনে ক্ষোভ তৈরি করেছে। বর্তমানে যুব বেকারত্বের হার ১৩.৫ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়েছে, যা জ্বালানি ও শিল্প খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রায় ৪ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমায় বাস করছে। বিএনপি নির্বাচনী প্রচারে নারীদের ভাতা ও বেকারদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রপ্তানি খাতের উন্নয়নে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন জরুরি। শেখ হাসিনার পতনের পর দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক কমানোর বিষয়ে অগ্রগতি হলেও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আরো ছাড় আদায়ের চেষ্টা করতে হবে।
নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বাধিক আসন পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি এখন সামাজিক কল্যাণের ওপর জোর দিলেও তাদের অতীত অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নারীদের বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে আশঙ্কা বাড়িয়েছে। বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ইসলামপন্থিদের প্রভাব সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে তারা গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবেই থাকবে।
গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই বিপ্লবে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় অনেক নারী ও সংখ্যালঘু মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তরুণদের হতাশা কাটিয়ে তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে নতুন সরকারকে।
টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানো। অর্থনীতি পুনর্গঠন, আঞ্চলিক কূটনীতি, রাজনৈতিক ঐক্য, ইসলামপন্থিদের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ- এই পাঁচটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই তার নেতৃত্বের সাফল্য নির্ধারিত হবে।
logo-1-1740906910.png)