মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ওমানে শ্রমিকদের জরিমানা মওকুফ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২০
ওমান
ওমানে শ্রমিকদের জরিমানা মওকুফ
ওমানে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর জারিকৃত বড় অংকের জরিমানা মাফ করা হয়েছে। ওমান সরকার ২০২৫ সালে প্রবাসী শ্রমিক ও তাদের নিয়োগকর্তাদের ওপর জারিকৃত শ্রমসংক্রান্ত প্রায় ১০০ মিলিয়ন ওমানি রিয়াল জরিমানা পুরোপুরি মওকুফ করেছে।টাইমস অব ওমানের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সরকারের এই বড় অংকের মওকুফের উদ্দেশ্য, প্রবাসী শ্রমিকরা যেন অতিরিক্ত জরিমানার চাপ ছাড়াই তাদের আইনি সমস্যা ঠিক করতে পারেন। এই জরিমানাগুলো মূলত ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, ইকামা বা শ্রম কার্ড নবায়ন না করা, চাকরি বদল বা স্পন্সর সংক্রান্ত কাগজপত্র ঠিক না থাকা এবং শ্রম আইনের নিয়ম না মানার কারণে জারি করা হয়েছিল। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব প্রবাসী বা কোম্পানি আগে এসব ভুলের কারণে জরিমানার আওতায় পড়েছিলেন, তারা এখন জরিমানা না দিয়েই কাগজপত্র হালনাগাদ করে বৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।এদিকে শ্রম মন্ত্রণালয় বলেছে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য প্রবাসীদের শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অবৈধ অবস্থান কমানো এবং শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। ওমান সরকারের এমন সিদ্ধান্ত দেশটিতে থাকা লাখো প্রবাসী কর্মীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এখন তারা নতুন করে স্বস্তি পেয়েছেন কেননা তাতে তাদের আইন মেনে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাহরাইন
বাহরাইনে বাড়ছে কর্মী নিয়োগের খরচ
বাহরাইনে রমজান মাসকে সামনে রেখে গৃহকর্মী নেওয়ার খরচ হঠাৎ করে অনেক বেড়ে গেছে। বিষয়টি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির বরাত দিয়ে নিউজ অব বাহরাইন জানিয়েছে, এখন নতুন করে কর্মী নিয়োগে খরচ পড়ছে প্রায় দুই হাজার বাহরাইনি দিনার পর্যন্ত। ঘণ্টাভিত্তিক কর্মীর ক্ষেত্রে যেখানে আগে প্রতি ঘণ্টা দুই দিনার ও এক দিনার পরিবহন খরচ ছিল, সেখানে এখন অনেক জায়গায় তিন দিনার বা তার বেশি দিতে হচ্ছে, সেই সাথে বাড়ানো হয়েছে পরিবহন খরচও। এদিকে, মাসিক চুক্তি ভিত্তিতে বা বাসায় থেকে কাজ করা কর্মীদের বেতন আগের তুলনায় বেড়ে এখন আড়াইশ থেকে তিনশ দিনারে পৌঁছেছে। আর সাথে যদি রান্নার কাজ যুক্ত হয়, সে ক্ষেত্রে খরচ আরো বাড়ছে। অনেক পরিবার অভিযোগ করছে, কিছু কর্মী স্পন্সর ছাড়াই অননুমোদিতভাবে কাজ করায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ সরকারের কাছে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং কর্মী নিয়োগে নির্দিষ্ট ও একক রেট চালুর দাবি জানিয়েছে।
কুয়েত
কুয়েতে শিক্ষা সনদ যাচাইয়ে কড়াকড়ি
কুয়েতে সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরের শ্রমিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট যাচাইয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে কর্মরত সবার শিক্ষাগত সনদ যাচাই কার্যক্রম আরো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ গাইডলাইন ফোরাম আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে ডিগ্রি ও একাডেমিক সার্টিফিকেট যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া, সমমান নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আরব টাইমস জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো চাকরিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সঠিক ও বৈধ কিনা তা নিশ্চিত করা, যাতে ভুয়া সনদের মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ না থাকে। এরই মধ্যে অনেক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের শিক্ষাগত তথ্য হালনাগাদ ও সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা চাকরিতে নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরো জোরদার করা যায়। কুয়েতে বহু বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মরত আছেন। এই সময় তাদেরও নিজস্ব শিক্ষাগত যোগ্যতার সঠিক তথ্য হালনাগাদ রাখা একান্ত জরুরি।
সৌদি আরব
সৌদির রিয়াদ এয়ারপোর্টে টার্মিনাল পরিবর্তনে সতর্কতা
রিয়াদ বিমানবন্দরে বড় ধরনের রিশাফেলিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ১৬ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বেশ কটি ফ্লাইটের রি অর্গানাইজ হবে। যার মানে হলো, সব ফ্লাইট আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ধাপে ধাপে নতুন টার্মিনালে চলে যাবে। যেমন, Flyadeal-এর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো যাবে টার্মিনাল ১-এ। অন্যদিকে, সৌদিয়ার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো যাবে টার্মিনাল ২-এ এবং অন্যান্য এয়ারলাইনের ফ্লাইটগুলো যাবে যথাক্রমে টার্মিনাল ৩, ৪ ও ৫-এ। এই পরিবর্তনের কারণে যাত্রীদের নিজেদের টিকিটে থাকা টার্মিনাল নাম্বার খুব সাবধানে চেক করে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ ভুল টার্মিনালে গেলে ফ্লাইট মিস হওয়ার সম্ভাবনা এই সময় বেশি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের ফ্লাইটের কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা আগে এয়ারপোর্টে পৌঁছাতে হবে। যাতে চেকইন, ব্যাগ হ্যান্ডলিং এবং নিরাপত্তা চেকআপ সময়মতো শেষ করা যায়। এই রি-অর্গানাইজেশনের মূল লক্ষ্য হলো যাত্রীদের যাত্রা সহজ, নিরাপদ এবং সময়মতো করা, পাশাপাশি বিমানবন্দরের কাজের গতি আরো বৃদ্ধি করা।
logo-1-1740906910.png)