রমজান মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য কর্মঘণ্টা দুই ঘণ্টা কমানো হয়। আইন অনুযায়ী ধর্ম, পদ বা কাজের ধরন নির্বিশেষে সব কর্মী এই সুবিধা পান। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদন বলছে, ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নং ১/২০২২ অনুযায়ী, রমজানে কর্মঘণ্টা কমানোর নিয়ম কার্যকর থাকে। তবে শিফটভিত্তিক কাজ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, হোটেল-রেস্তোরাঁ বা ব্যবসা অব্যাহত রাখার জন্য জরুরি খাতের কর্মীরা স্বাভাবিক সময়েই কাজ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ কর্মঘণ্টা মেনে চলতে হবে এবং অতিরিক্ত সময়ের জন্য কর্মীদের ওভারটাইম দিতে হবে।
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার (DIFC) ও আবুধাবি গ্লোবাল মার্কেটের (ADGM) মতো ফ্রি-জোনে আলাদা শ্রম আইন কার্যকর। DIFC-এর আইনে মুসলিম কর্মীদের জন্য রমজানে দৈনিক সর্বোচ্চ ছয় ঘণ্টা কাজের নিয়ম রয়েছে। তবে অমুসলিম কর্মীদের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
যদি কোনো কর্মীকে রমজানে নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করতে হয়, তা ওভারটাইম হিসেবে গণ্য হবে। আইন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সময়ের জন্য কর্মীরা তাদের মূল বেতনের সঙ্গে ২৫ শতাংশ বাড়তি পারিশ্রমিক পাবেন। রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে কাজ করলে এই হার বেড়ে ৫০ শতাংশ হবে। তবে শিফটভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
যদি কোনো কর্মীকে তার ছুটির দিনে কাজ করতে হয়, তবে তাকে বিকল্প ছুটি দিতে হবে অথবা মূল বেতনের সঙ্গে ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রমজানে কর্মঘণ্টা কমানো কর্মীদের জন্য স্বস্তি হলেও ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কিছু খাতকে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। তবে সব ক্ষেত্রেই নিয়োগকর্তাদের আইন অনুযায়ী ওভারটাইমের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
logo-1-1740906910.png)