সারাবিশ্বে শবেবরাত পালিত, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ আয়োজন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতভর পালিত হয়েছে পবিত্র শবেবরাত। মুসলমানদের কাছে এ রাতকে ক্ষমা, আত্মশুদ্ধি ও দোয়ার রাত হিসেবে ধরা হয়। এ উপলক্ষে দক্ষিণ এশিয়া থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও মসজিদে বিশেষ নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদগুলোতে মুসল্লিরা রাতভর ইবাদত করেছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করে। একইভাবে গ্রামাঞ্চল ও শহরে পরিবারগুলো ঐতিহ্যবাহী রুটি, হালুয়া, বিরিয়ানি ও মাংস রান্না করে আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শবেবরাত পালনের আবহ ছিল আরো ব্যাপক। সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে মুসল্লিরা রাতভর নামাজ ও দোয়া করেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক মুসল্লি এ রাতে অংশ নিয়েছেন এবং বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। মসজিদে নববীতে কোরআন তেলাওয়াত ও হাদিস পাঠের পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবির বড় বড় মসজিদগুলোতে শবেবরাত উপলক্ষে ধর্মীয় আলোচনা ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মুসল্লিরা রাতভর ইবাদত করেছেন এবং পরিবারগুলো ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। কাতার ও ওমানেও একইভাবে মসজিদগুলোতে বিশেষ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
তুরস্কে শবেবরাত “বেরাত কান্দিলি” নামে পরিচিত। দেশটির ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এ উপলক্ষে বিশেষ বার্তা দিয়েছে। ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া মসজিদে হাজারো মুসল্লি নামাজ ও দোয়া করেছেন। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে শবেবরাতের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়েছে।
পাকিস্তান ও ভারতেও শবেবরাত পালিত হয়েছে ব্যাপকভাবে। করাচি, লাহোর ও দিল্লির মসজিদগুলোতে মুসল্লিরা রাতভর নামাজ ও মোনাজাত করেছেন। কবরস্থানে গিয়ে প্রিয়জনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন অনেকে। পরিবারগুলো ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করেছে।
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রবাসী মুসলমানরাও শবেবরাত পালন করেছেন। লন্ডন, নিউ ইয়র্ক ও টরন্টোর মসজিদগুলোতে বিশেষ নামাজ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় মুসলমানরা ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করে কমিউনিটি সেন্টারে একত্রিত হয়েছেন।
ধর্মীয় নেতারা বলেছেন, শবেবরাত মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা প্রার্থনা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এ রাতে মানুষ দোয়া, দান-খয়রাত ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। একই সঙ্গে দরিদ্রদের সহায়তা করার মাধ্যমে সামাজিক সংহতি ও মানবিকতা জোরদার হয়।
logo-1-1740906910.png)