পর্যটন কেন্দ্র থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের কেন্দ্র হাইনান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩
চীনের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দ্বীপ হাইনানকে বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য বন্দরে রূপান্তরের উদ্যোগ এখন বাস্তব রূপ নিচ্ছে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেন আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা কার্যকর হয়। চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, এটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য চীনের বিশাল বাজারে প্রবেশের একটি বড় উদ্যোগ।
হাইনান অতীতে বিলাসবহুল রিসোর্ট ও সৈকতের জন্য পরিচিত হলেও এবার তার অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্য অনেক বড়। আয়তনে দ্বীপটি হংকংয়ের চেয়ে ৩০ গুণ বড় এবং তাইওয়ানের সমান। নতুন এফটিপি নীতির আওতায় ৭৪ শতাংশ পণ্য শুল্ক ছাড়াই হাইনানে প্রবেশ করতে পারবে। যদি কোনো পণ্যের মূল্য দ্বীপে প্রক্রিয়াজাত করে ৩০ শতাংশ বাড়ানো যায়, তবে সেটি মূল ভূখণ্ডেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পাঠানো যাবে।
বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে উচ্চ আয়ের ওপর করহার ১৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যেখানে মূল ভূখণ্ডে এই হার ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রসহ ৮৬টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগও রাখা হয়েছে।
তবে হাইনান পুরোপুরি স্বাধীন হবে না, যেমনটি হংকং। দ্বীপটির ইতিহাসে রয়েছে রাজদরবারের বিরাগভাজনদের নির্বাসনের স্মৃতি, আর অর্থনৈতিক সংস্কারের পরীক্ষাগার হিসেবে এর অতীত মিশ্র। ১৯৮৪ সালে বিদেশি পণ্য আমদানির অনুমতি পেয়ে দ্বীপটি নানা কেলেঙ্কারির জন্য কুখ্যাত হয়।
পর্যটন খাতে হাইনান সফল হলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স দুর্বল। ২০২৪ সালে মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১০ হাজার ৯০০ ডলার, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে কম। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্নতা দ্বীপটির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
তবু বেইজিং থেকে ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরত্বকে অনেকে এফটিপি প্রকল্পের জন্য আশীর্বাদ মনে করছেন। এখানে ব্যর্থতার প্রভাব মূল ভূখণ্ডে কম পড়বে। পাইলট প্রকল্পে কোম্পানিগুলো গুগল ও এক্সের মতো সাইট ব্যবহার করতে পারছে, যা চীনে সাধারণত নিষিদ্ধ।
চীনের নেতৃত্ব মনে করছে, কিছুটা ঝুঁকি নেওয়াই হতে পারে লাভজনক। প্রেসিডেন্ট শি এই উদ্যোগকে “উন্মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি”র জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেছেন।
চিকিৎসা পর্যটন খাতকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে ‘বোয়াও হোপ সিটি’, যেখানে বিদেশে অনুমোদিত ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে। রিসোর্টের মতো সাজানো হাসপাতালে ধনী চীনারা লাখ লাখ ইউয়ান খরচ করছেন।
প্রক্রিয়াজাত শিল্পেও এফটিপির প্রভাব পড়ছে। কোল্ড ড্রিংক কোম্পানি ‘মিক্সু’ হাইনানে কারখানা স্থাপন করেছে। হংকংয়ের সোয়্যার প্যাসিফিকও কোকা-কোলা বোতলজাত করার কারখানা গড়ছে।
তবে দক্ষ জনবল ও সরবরাহ চেইনের অভাবে হাইনানের পক্ষে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কঠিন হবে বলে মনে করছেন কিছু বিদেশি ব্যবসায়ী।
logo-1-1740906910.png)