Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিদেশ থেকে মৃতদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০৩

বিদেশ থেকে মৃতদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া

বিদেশে ভ্রমণের সময় কোনো যাত্রী মারা গেলে তার মরদেহ দেশে বা অন্য দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘রিপ্যাট্রিয়েশন অব মর্টাল রিমেইনস’। এটি অত্যন্ত জটিল একটি কাজ, যেখানে ডাক্তার, এয়ারলাইন কর্মী, দূতাবাস এবং সরকারি সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন হয়। অনেক দেশ, যেমন যুক্তরাষ্ট্র মরদেহ পাঠানোর আগে এমবামিং বা রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করে।

একজন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে আনার জন্য দূতাবাসের অনুমতি, স্থানীয় হাসপাতাল ও পুলিশের কাগজপত্র, এয়ারলাইন্সের অনুমোদন এবং এমবামিং সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। খরচ সাধারণত ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ইউরো (প্রায় ৬-১২ লাখ টাকা) পর্যন্ত হতে পারে এবং সময় লাগে ৩ থেকে ৭ দিন, পরিস্থিতি ও দেশের নিয়ম অনুযায়ী।  

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মরদেহ দেশে আনার ধাপসমূহ  

১. মৃত্যু সনদ সংগ্রহ

   - স্থানীয় হাসপাতাল বা ফরেনসিক বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক মৃত্যু সনদ নিতে হয়।  

   - মৃত্যুর কারণ উল্লেখ থাকতে হবে।  

২. এমবামিং সার্টিফিকেট

   - অনেক দেশ মরদেহ পাঠানোর আগে রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ (Embalming) বাধ্যতামূলক করে।  

   - স্থানীয় ফিউনারেল হোম বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান এই কাজ সম্পন্ন করে।  

৩. দূতাবাসের অনুমতি (NOC)

   - সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে No Objection Certificate (NOC) নিতে হয়।  

   - প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: মৃত্যু সনদ, এমবামিং সার্টিফিকেট, মৃত ব্যক্তির পাসপোর্ট, কোম্পানির ফরওয়ার্ডিং লেটার (যদি থাকে), এবং বাংলাদেশে মরদেহ গ্রহণকারীর তথ্য।  

৪. এয়ারলাইন্স ও কাস্টমস প্রক্রিয়া

   - মরদেহকে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বায়ুনিরোধক ব্যাগে রেখে কফিনে সিল করা হয়।  

   - এয়ারলাইন্সের অনুমোদন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়।  

   - বাংলাদেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।  

৫. বাংলাদেশে গ্রহণ 

   - বিমানবন্দরে কাস্টমস ও স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  

খরচ  

- আন্তর্জাতিকভাবে মরদেহ পাঠানোর খরচ ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে (প্রায় ৬-১২ লাখ টাকা)।  

- এর মধ্যে কফিন, এমবামিং, কাগজপত্র, এয়ারলাইন্স চার্জ এবং পরিবহন খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে।  

- ভালো ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স থাকলে এই খরচ অনেক সময় কোম্পানি বহন করে।  

সময়:

- সাধারণত সব কাগজপত্র ও অনুমোদন সম্পন্ন করতে ৩ থেকে ৭ দিন সময় লাগে।  

- যদি কোনো আইনি জটিলতা থাকে (যেমন মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত), তাহলে সময় আরো বাড়তে পারে।  

বাস্তব পরামর্শ:

- ভ্রমণের আগে ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করা অত্যন্ত জরুরি। এতে মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ কোম্পানি বহন করে।  

- পরিবারের উচিত দূতাবাসের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা।  

প্রবাসীর মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া জটিল হলেও দূতাবাস, হাসপাতাল, এয়ারলাইন্স ও সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে তা সম্পন্ন হয়। খরচ বেশি হলেও সময়মতো কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই মরদেহ দেশে পৌঁছানো সম্ভব।

Logo