মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বাড়ছে উদ্বেগ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪৪
সৌদি আরব
সৌদিতে
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায়
বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি
আরবের আকাশসীমায় নতুন করে বাড়ছে
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার
উদ্বেগ। পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি
করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি গেজেটের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবার ইয়েমেনের
হুথিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র
এবং তিনটি ড্রোন প্রতিহত করেছে সৌদি আরবের আকাশ
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রিয়াদ, মক্কা, মদিনা, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলকে লক্ষ্য
করে এসব হামলা চালানো
হয়েছিল বলে জানিয়েছে জোটের
মুখপাত্র। এর আগে ২৯ অক্টোবর
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি
ব্যালিস্টিক মিসাইলও ধ্বংস করা হয়। এদিকে ৩০
অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিশন সৌদি আরবে
সম্ভাব্য বিমানবন্দর হামলা, আকাশসীমা বন্ধ এবং ফ্লাইট
বাতিলের বিষয়ে নতুন করে সতর্ক
করেছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর আংশিকভাবে চালু থাকলেও জেদ্দা
ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের আশঙ্কা
রয়েছে। সৌদি আরবের নাগরিক ও প্রবাসীদের সতর্ক
থাকতে এবং বিমানযাত্রীদের যাত্রার
আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া
হয়েছে।
বাহরাইন
বাহরাইন নিরাপত্তা বাড়াতে নিচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ
মধ্যপ্রাচ্যে
চলমান উত্তেজনা ও একের পর
এক নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে
ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে উপসাগরীয় ছয় দেশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাহরাইনের রাজধানী মানামায় গালফ কো-অপারেশন
কাউন্সিল বা জিসিসির সুপ্রিম মিলিটারি
কমিটির ২৩তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ
নেয় সৌদি আরব, সংযুক্ত
আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান ও স্বাগতিক
বাহরাইনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা। বৈঠকে সৌদি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব
দেন দেশটির চিফ অব জেনারেল
স্টাফ জেনারেল ফাইয়াদ আল-রুয়াইলি। বাহরাইনের
চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট
জেনারেল থিয়াব বিন সাকর আল-নুয়াইমি বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এবং অঞ্চলে চলমান
অস্বাভাবিক আগ্রাসন মোকাবিলায় পূর্ণ সংহতি, ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও যৌথ সহযোগিতা
অপরিহার্য। বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
শক্তিশালী করা, সামরিক সক্ষমতার
সমন্বয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা
পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। জিসিসির জেনারেল সেক্রেটারিয়েট ও ইউনিফায়েড মিলিটারি
কমান্ডের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
তবে বৈঠক শেষে এখন
পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সামরিক
অভিযান বা নতুন প্রতিরক্ষা
চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সংযুক্ত আরব
আমিরাত
নিরাপত্তা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন আমিরাতে
আঞ্চলিক
ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয়তা-সংক্রান্ত
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতি আরো জোরদার করছে
সংযুক্ত আরব আমিরাত। ১২
থেকে ২৩ অক্টোবর আবুধাবিতে
দুই সপ্তাহব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে দেশটির ফেডারেল
অথরিটি ফর নিউক্লিয়ার রেগুলেশন
বা FANR, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং আবুধাবি সিভিল
ডিফেন্স অথরিটি। এতে ২৫টিরও বেশি জাতীয় সংস্থার
বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণে জরুরি
পরিকল্পনা, প্রতিক্রিয়া পদ্ধতি, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের
মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া
হয়।অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও
স্লোভাকিয়ার যৌথ উদ্যোগে ইন্টারন্যাশনাল
সিকিউরিটি অ্যালায়েন্সের একটি বিশেষ নিরাপত্তা
প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমিরাত, স্লোভাকিয়া, বাহরাইন, মরক্কো, ইতালি ও ফ্রান্সের নিরাপত্তাকর্মীরা
অংশ নেন। প্রশিক্ষণে ড্রোন পরিচালনা, ড্রোন প্রতিরোধ, কৌশলগত দক্ষতা, অস্ত্রচালনা এবং যৌথ মহড়ার
মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ২৫ অক্টোবর এই কর্মসূচি শেষ
হয়।
কুয়েত
নিরাপত্তা
বাড়াতে কুয়েতের বড় পদক্ষেপ
কুয়েত
দেশটির আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা
জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছে। ২৭ অক্টোবর দেশটির আমির ও সশস্ত্র
বাহিনীর সর্বাধিনায়ক শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ ন্যাশনাল
গার্ডের ‘ইসনাদ-৪’ সামরিক মহড়া
সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সদস্যদের
প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি
মোকাবিলার সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেন। কুয়েত ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, এই মহড়ার মূল
লক্ষ্য সহায়তাকারী ইউনিটগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং যে কোনো জরুরি
পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা
তৈরি করা। অন্যদিকে, কুয়েতের
সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, ৩০ অক্টোবর থেকে
৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কয়েকটি সেনা ইউনিটের অংশগ্রহণে
লাইভ-ফায়ার বা সরাসরি গোলাবর্ষণ
প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বিষয়ে নাগরিক
ও প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ওমান
ওমানের সামরিক
প্রস্তুতি জোরদার
নিজেদের
নৌ-প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক প্রস্তুতি
আরো জোরদার করতে বার্ষিক নৌ-মহড়া ‘সি লায়ন ২০২৬’
পরিচালনা করেছে ওমানের রয়্যাল নেভি। ২৫ অক্টোবর দেশটির
আল মুসান্না প্রদেশের সাঈদ বিন সুলতান
নেভাল বেসে এই মহড়া
শুরু হয় এবং ২৯
অক্টোবর পর্যন্ত চলে। ওমানের রয়্যাল
নেভি পরিচালিত এই মহড়ার শুরুতে
অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ ব্রিফিংয়ের
আয়োজন করা হয়। এতে
সামরিক দক্ষতা বৃদ্ধি, যুদ্ধকালীন সক্ষমতা উন্নয়ন এবং নৌবাহিনীর সদস্য
ও বহরের প্রস্তুতির মাত্রা আরো উন্নত করার
প্রশিক্ষণগত লক্ষ্য তুলে ধরা হয়।
মহড়ায় বিভিন্ন অপারেশনাল পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের
অনুকরণে সমন্বিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং মাঠপর্যায়ের অনুশীলন
অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নৌবাহিনীর বার্ষিক প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই
মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে, যার
লক্ষ্য বিভিন্ন নৌ-দক্ষতায় বহর
ও সদস্যদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা।
logo-1-1740906910.png)