মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সৌদিতে স্থলপথের যাত্রীদের জন্য নতুন ডিজিটাল সেবা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৮
সৌদি আরব
সৌদিতে স্থলপথের যাত্রীদের জন্য নতুন ডিজিটাল সেবা
সৌদি
আরবে স্থলসীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারী বিদেশি পর্যটক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর
নাগরিকদের জন্য নতুন ডিজিটাল সেবা চালু হয়েছে। এখন থেকে সৌদি
আরবে প্রবেশের আগে মোবাইল অ্যাপের
মাধ্যমেই ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন যাত্রীরা।
২৬ অক্টোবর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘আবশের ট্রাভেল ফর ভিজিটরস’ নামে
এই সেবা চালু করেছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবশের অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র, গাড়ির তথ্য এবং গাড়ির
বিমার প্রয়োজনীয় কাজ আগেই সম্পন্ন
করতে পারবেন। এ জন্য অ্যাপে
প্রবেশ করে নিজের জাতীয়তা,
মোবাইল নম্বর ও ভ্রমণ নথির
ধরন নির্বাচন করতে হবে। এরপর
কোন স্থলসীমান্ত দিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ
করবেন এবং সম্ভাব্য ভ্রমণের
তারিখ উল্লেখ করে যাত্রী, গাড়ি
ও বিমার তথ্য জমা দিতে
হবে। ফলে সীমান্তে পৌঁছানোর
পর কাগজপত্র সম্পন্ন করার ঝামেলা কমবে
বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র, পর্যটনসহ একাধিক সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় এই সেবা চালু
করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
হলো, ২০২৭ সালের ২৬
এপ্রিল থেকে এটি বাধ্যতামূলকভাবে
কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
বাহরাইন
বাহরাইনে প্রতারণা করে মোবাইল সংগ্রহ, আইনি জটিলতায় তিন এশীয়
বাহরাইনে
মোবাইল ফোন কেনার নামে
প্রতারণার অভিযোগে আইনি জটিলতায় পড়েছেন
তিন এশীয় নাগরিক। দেশটির একটি টেলিকম কোম্পানির
কাছ থেকে প্রতারণার
মাধ্যমে মোবাইল ফোন সংগ্রহ করার
অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। গালফ ডেইলি নিউজের
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত তিনজন প্রতারণামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে কোম্পানিটির কাছ
থেকে ফোন সংগ্রহ করেছিলেন
বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি
সামনে আসার পর তাদের
বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া
হয়েছে এবং ঘটনাটি নিয়ে
আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঠিক কী
পদ্ধতিতে প্রতারণা করা হয়েছিল, কতটি
মোবাইল ফোন নেওয়া হয়েছিল
এবং কোম্পানিটির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত; এসব বিষয়ে
প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা
হয়নি। একইভাবে অভিযুক্তদের জাতীয়তা ও মামলার চূড়ান্ত
রায় সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা
হয়নি। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগের
বিস্তারিত তথ্য ও অভিযুক্তদের
দায় নির্ধারিত হতে পারে।
সংযুক্ত আরব
আমিরাত
শিশুকে একা রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায়, দণ্ড পেল নারী
সংযুক্ত আরব
আমিরাতের আবুধাবিতে এক শিশুকে গভীর রাতে একা সমুদ্রসৈকতে থাকতে দেওয়া এবং সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নজরদারি না করার অভিযোগে এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির
আদালত। ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির নিরাপত্তা ও
নৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ওই নারী বলে
অভিযোগ করে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন। অভিযোগে বলা হয়, শিশুটি একা সৈকতে থাকার পাশাপাশি
একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করেছিল, যার ফলে তার ছবি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে
পড়ে। এ ঘটনায় শিশু অধিকার সুরক্ষায় ২০১৬ সালের ফেডারেল আইন, যা ‘ওয়াদিমা আইন’ নামে
পরিচিত, এর আওতায় ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। প্রথম পর্যায়ের আদালত তাকে দুই
মাসের কমিউনিটি সার্ভিসের সাজা দেন এবং আদালতের খরচ পরিশোধের নির্দেশ দেন। পরে ওই নারী
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ফেডারেল আপিল আদালত কমিউনিটি সার্ভিসের পরিবর্তে তাকে ৩
হাজার দিরহাম জরিমানা করেন। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফেডারেল
সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। সুপ্রিম কোর্ট জানান, শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তি আপিল করলে
তার শাস্তি আগের চেয়ে কঠোর করা যায় না, বিশেষ করে যখন প্রসিকিউশন মূল রায়ের বিরুদ্ধে
আপিল করেনি। আদালতের মতে, এ ক্ষেত্রে জরিমানা কমিউনিটি সার্ভিসের তুলনায় কঠোর শাস্তি। তাই
আপিল আদালতের রায় বাতিল করে মামলাটি নতুন করে শাস্তি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে
ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন করে কী শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
কুয়েত
কুয়েতে রাষ্ট্রমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র, তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
কুয়েতে দেশটির
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিনজনকে
মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরো আটজন কুয়েতি নাগরিককে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড
দেওয়া হয়েছে। ২৬ অক্টোবর আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতের ফৌজদারি আদালতের
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগ এই রায় ঘোষণা করেছে। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইরানের
সঙ্গে সহযোগিতা, লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সদস্য হওয়া, কুয়েতের জাতীয় স্বার্থ
ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফকে
হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের কয়েকজন মিলে
হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং কে কী দায়িত্ব পালন করবেন, তা ভাগ করে নেন। অন্য একজনের
বিরুদ্ধে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের দায়িত্ব পাওয়ার
অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিস্ফোরক ব্যবহার করে দেশে আতঙ্ক ছড়ানোর পরিকল্পনা এবং সেই
উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক কুয়েতে আনার চেষ্টার অভিযোগও মামলায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ওমান
কুয়েতে জুয়া খেলার অভিযোগে ১৩ এশীয় আটক
ওমানে
অবৈধ জুয়া খেলার অভিযোগে ১৩ জন এশীয়
নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে রয়্যাল ওমান পুলিশ। ২৬
অক্টোবর প্রকাশিত গালফ নিউজের প্রতিবেদন
অনুযায়ী, রাজধানী মাস্কাট গভর্নরেটের আল আমেরাত এলাকায়
অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মাস্কাট গভর্নরেট পুলিশ কমান্ড এই অভিযান পরিচালনা
করে। ওমানের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, দেশটিতে
জুয়া খেলা এবং জুয়ার
আসর পরিচালনা করা অপরাধ। দেশটির
দণ্ডবিধি অনুযায়ী, জুয়া খেলায় দোষী সাব্যস্ত হলে
এক থেকে ছয় মাস
পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০০ থেকে
৫০০ ওমানি রিয়াল জরিমানা হতে পারে। এ
ক্ষেত্রে আদালত যে কোনো একটি শাস্তিও দিতে
পারেন। অন্যদিকে, জুয়ার আসর পরিচালনা বা
আয়োজনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি আরো কঠোর হতে পারে। এই
অপরাধে তিন মাস থেকে
তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
এবং সর্বোচ্চ এক হাজার ওমানি
রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি জুয়ার কাজে ব্যবহৃত অর্থ
ও সরঞ্জাম জব্দ করার ব্যবস্থাও
আইনে রয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া
১৩ জনের জাতীয়তা, তাদের
কাছ থেকে কোনো অর্থ
বা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে কিনা এবং মামলার পরবর্তী
আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে
আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)