সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৮
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে সৌদি আরবে আটকে পড়া বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
২৩ অক্টোবর সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যেসব প্রবাসী কর্মী বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না, তাদের ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, সংঘাতের কারণে চাকরি হারানো বাংলাদেশিদের পুনর্বাসন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি মোহাম্মদ শাহেদ আহমেদের মরদেহ গ্রহণ উপলক্ষে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সৌদি আরবে ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। ফলে সেখানে যুদ্ধ, হামলা বা দুর্ঘটনার খবর এলেই বাংলাদেশ সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
তার ভাষায়, “আমরা চাই যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং বাংলাদেশিসহ কোনো দেশের নাগরিক যেন এ ধরনের হামলার শিকার না হন”। তিনি আরো জানান, বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন।
সম্প্রতি সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের কপি চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। রায়ের কপি পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে যে কী পরিস্থিতিতে ওই রায় কার্যকর হয়েছে।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুদণ্ড বা অন্য কোনো গুরুতর শাস্তির মুখোমুখি হলে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং আইনগত সুযোগ থাকলে দণ্ড মওকুফ বা কমানোর প্রচেষ্টা চালায়।
তিনি বলেন, “আমরা অন্য দেশের বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করি না। তবে আমাদের নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় যতটুকু সম্ভব, ততটুকু করার চেষ্টা করি।”
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আইন ও স্বরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে।
অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হওয়ায় দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, ফ্লাইট বিঘ্ন এবং ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা লাখো বাংলাদেশি প্রবাসীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সময়োপযোগী কূটনৈতিক উদ্যোগ ও প্রবাসী সুরক্ষা ব্যবস্থা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
logo-1-1740906910.png)