Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

মদিনার আকাশে হুতি ক্ষেপণাস্ত্র

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১৩

মদিনার আকাশে হুতি ক্ষেপণাস্ত্র

সৌদি-হুতি সংঘাতের উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। ১৫ অক্টোবর পবিত্র শহর মদিনার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা। সৌদি জোট বাহিনী জানিয়েছে, তারা সেই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করেছে।

সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর স্থানীয় সময় বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘটনা ঘটল। এ নিয়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদির দিকে আসা ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি সরকার।

তবে মদিনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর শহরের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক থাকা এই শহরে সব সময়ই হাজিদের উপস্থিতি থাকে। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে গোটা মুসলিম বিশ্বে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদ, আল-খারজ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশকে লক্ষ্য করেই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, হুতিদের হামলা নিষ্ক্রিয় করে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সৌদি বাহিনী।

এদিকে, সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলার হুমকি দিয়েছে হুতিরা। সৌদি আরবের তেল জায়ান্ট সৌদি আরামকোর সদরদপ্তরে হুতিদের হামলার পরদিনই এ হুমকি এল। ওই হামলায় সদরদপ্তরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরব যখন ইয়েমেনে ব্যাপক হামলার ছক কষছে, তখন হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বেসামরিক মানুষজনও কঠিন সময়ের আশঙ্কায় খাবার মজুদ করছেন। একই সময়ে হুতি যোদ্ধারাও অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছেন বলে খবর দিয়েছে বৃটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।

ইয়েমেনের তাইজ শহরের বাসিন্দারা নিয়মিত বিস্ফোরণের শব্দ শুনছেন। শহরবাসীর আশঙ্কা, সর্বাত্মক যুদ্ধ হয়তো আরও ঘনিয়ে আসছে।

হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার বদলা নিতেই তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এভাবে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে সৌদি-হুতি সংঘাতের উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের তুলনায় হুতিদের সামরিক সক্ষমতা অনেক কম। তবে ইরানের কাছ থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কৌশল রপ্ত করার কারণে তারা সৌদি বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সৌদি জোট বাহিনী বেশির ভাগ হামলা প্রতিহত করতে পারলেও, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বারবার সৌদির প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়েছে বা ভেদ করেছে। এতে সৌদি আরবের বিশাল ভূখণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ধারাবাহিক হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্রের এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও। বিডিনিউজের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে চলমান হামলার পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে।

এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে ঢাকা থেকে মোট ১০৩টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪২টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৬১টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। এসব ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী।

সৌদি-হুতি সংঘাতের জেরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন এবং আহতদের মধ্যে ২৭ জন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব হতাহতের তথ্য ও সংঘাতের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা জরুরি।

সংঘাতের এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীরা। বিশেষ করে সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।

সৌদি-হুতি সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা শুধু সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। আর তেমন পরিস্থিতি তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসীর নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

Logo