মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৮
সৌদি আরব
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সৌদি সংবাদ মাধ্যম AJEL English-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত দুই বাংলাদেশির নাম নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পবিত্র মসজিদের মর্যাদা লঙ্ঘন এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুসরণ করা জরুরি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি মা-ছেলে
আমিরাতের আবুধাবিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে। নিহতরা হলেন অসীমা চৌধুরী ও তার ছেলে অরিত্র বিশ্বাস। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর রাত প্রায় ৯টার দিকে আল ওয়াথবা ব্রিজের কাছে আল আইন রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গাড়িতে করে যাচ্ছিল। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন অরিত্রর বাবা স্বরূপ কান্তি বিশ্বাস। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, দ্রুতগতির একটি গাড়ি পেছন থেকে তাদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের নিরাপত্তা ব্যারিয়ারে ধাক্কা মারেন। দুর্ঘটনায় মা ও ছেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বরূপ কান্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, পরে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নিহত দুজনের মরদেহ আবুধাবির বানিয়াস এলাকার কেন্দ্রীয় মর্গে রাখা হয়েছে। তাদের মরদেহ দেশে পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা যোগাযোগ রাখছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে।
বাহরাইন
বাহরাইনে প্রবাসীদের চাকরি নিয়ে দুঃসংবাদ
বাহরাইনে প্রবাসীদের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ আসতে পারে। দেশটিতে প্রবাসীদের দখলে থাকা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার চাকরি বাহরাইনের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির সংসদ সদস্য জালাল আল মাহফুধ। তার দাবি, বেসরকারি খাতে বর্তমানে পাঁচ লাখেরও বেশি প্রবাসী কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে প্রশাসনিক, কারিগরি, মানবসম্পদ ও সহায়ক বিভিন্ন পদে কর্মরত দেড় লাখের বেশি প্রবাসীর জায়গায় যোগ্য বাহরাইনি নাগরিকদের নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের ৩০টি পেশা বাহরাইনের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাবসংবলিত একটি আইনও জমা দিয়েছেন তিনি। তবে যোগ্য বাহরাইনি নাগরিক পাওয়া না গেলে প্রবাসীদের নিয়োগের সুযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে। ওই সংসদ সদস্যের মতে, প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার বাহরাইনি শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেন। তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ জরুরি। তবে প্রস্তাবটি এখনো আইন হিসেবে কার্যকর হয়েছে- এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বাহরাইনে কর্মরত প্রবাসীদের চাকরির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ওমান
ওমানে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার পরামর্শ
ওমানে চাকরি নিয়ে অভিযোগ করলেও কর্মীদের দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির শ্রমিক ফেডারেশন! ওমান অবজারভারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেল ফেডারেশন অব ওমান ওয়ার্কার্স জানিয়েছে, কোনো কর্মীকে তার চাকরির চুক্তিতে উল্লেখ করা কাজের বাইরে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি আইনগতভাবে আপত্তি জানাতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। তবে চাকরির চুক্তি বহাল থাকা অবস্থায় অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাধারণভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা এবং নিজের দায়িত্ব পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে একটি ঘটনার কথা তুলে বলা হয়েছে, যেখানে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে কাজে যোগ দেওয়া কয়েকজন কর্মী তাদের চুক্তিতে উল্লেখ করা কাজের সঙ্গে মিল নেই- এমন দায়িত্ব পান। তারা অভিযোগ দায়ের করে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কাজে যাওয়া বন্ধ করে দেন। পরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের অনুপস্থিত সময়ের বেতন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পর কর্মীদের কাজের ধরন এবং অনুপস্থিতির পরিণতি পর্যালোচনা করা হয়। শ্রমিক ফেডারেশন বলেছে, কর্মীদের অভিযোগ জানানোর অধিকার রয়েছে, তবে অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাজে উপস্থিত থাকলে তাদের অধিকার ও অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে সুবিধা হয়। তাই ওমানে প্রবাসী কর্মীদের চুক্তির বাইরে কাজ দেওয়া হলে প্রমাণ সংরক্ষণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
logo-1-1740906910.png)