Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

সৌদিতে হুতি হামলায় উদ্বেগে প্রবাসীরা, রেমিট্যান্স ও শ্রমবাজারে শঙ্কা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪২

সৌদিতে হুতি হামলায় উদ্বেগে প্রবাসীরা, রেমিট্যান্স ও শ্রমবাজারে শঙ্কা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় আকাশপথে যাতায়াত, কর্মস্থলে যোগদান এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়েও নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে সরকার। রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

অভিবাসন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, হামলার তাৎক্ষণিক প্রভাবের চেয়ে বড় উদ্বেগ হলো দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিস্থিতি। কারণ সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব রেমিট্যান্স ও শ্রমবাজারে পড়তে পারে। তার মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত বিস্তৃত হলে ঝুঁকি আরো বাড়বে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, বর্তমানে আতঙ্কের চেয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে কর্মসংস্থান, শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রমবাজারের জন্য সৌদি আরবের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া মোট বাংলাদেশি কর্মীর প্রায় ৬৭ শতাংশের গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। ওই বছর দেশটিতে গেছেন ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী।

বর্তমানে সৌদি আরবে আনুমানিক ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস ও কাজ করছেন। তারা বছরে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসেছে প্রায় ৫৮৪ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি সংঘাতের কারণে কর্মসংস্থান কমে যায়, বেতন কমে বা শ্রমিকরা দেশে ফিরতে বাধ্য হন, তাহলে রেমিট্যান্স প্রবাহেও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

উদ্বেগে রয়েছেন দেশের পরিবারগুলোর সদস্যরাও। কারণ সৌদি আরবে কর্মরত অধিকাংশ বাংলাদেশিই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তাদের পাঠানো অর্থে চলে পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ।

অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা, নির্মাণ ও সেবা খাতে ইতোমধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও কর্মঘণ্টা কমেছে, বেতন বিলম্বিত হচ্ছে এবং নতুন নিয়োগও ধীরগতিতে চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলে বড় ধরনের প্রভাব এড়ানো সম্ভব। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু প্রবাসীদের নয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়, শ্রমবাজার এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Logo