সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহযাত্রী রয়েছেন। বর্তমানে তারা রিয়াদের অন্তত ১১টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সার্বক্ষণিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
স্থানীয় সময় ১০ অক্টোবর বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনাল এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন।
গুরুতর আহতদের মধ্যে হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ এবং মো. ওমর ফারুক কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দূতাবাস জানিয়েছে, তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
অন্যদিকে সাফফাত রহমান ও দাউদুল ইসলাম ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা দুজনই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে ট্রানজিটে ছিলেন।
এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাইদুল ইসলাম সৌরভ, আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন, আব্দুল্লাহ, আরমান হোসেন, ফয়সাল আহমদ আব্দুল হক, রফিক মিয়া, ইসমাইল হোসাইন, মিসবাহ উদ্দীন হীরক, মো. রায়হানুল ইসলাম, সালমা আক্তার, শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ, সোবহে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার, আসাদুল ইসলাম, জামাল, নাজমা আক্তার, উমায়ের এবং আব্দুল্লাহ কামিল।
হামলার পর বিমানবন্দর ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
দূতাবাসের তথ্যমতে, বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য রিয়াদে হোটেল ও আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া এহরাম পরিহিত ৬৭ জন ওমরাহযাত্রীকে বিশেষ বাসে জেদ্দায় পাঠানো হয়েছে।
সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বাতিল হওয়া একটি ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ যাত্রীকে বিকল্পভাবে দাম্মাম বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু যাত্রীকে স্থলপথে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করা হয়েছে।
হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয়ও প্রকাশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। নিহত শাহেদ আহম্মেদ বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং সৌদি আরবে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অপর নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা এবং ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব গিয়েছিলেন।
logo-1-1740906910.png)