Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুতির হামলা: নারীসহ নিহত ৩, আহত ৩৬

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুতির হামলা: নারীসহ নিহত ৩, আহত ৩৬

সৌদি আরবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চালানো পৃথক হামলায় দুই নারীসহ অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুটিতে পরপর সংঘটিত এসব বিমান হামলায় আহত হয়েছেন আরো ৩৬ জন। দেশের রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আবহা বিমানবন্দরে ৬ ও ৭ অক্টোবর এই হামলা চালানো হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি আরব জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেছে। সংস্থাটি জানায়, আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় নিহত দুই নারী মরক্কো এবং আলজেরিয়ার নাগরিক। ওই একই হামলায় আরো ২৮ জন সাধারণ যাত্রী ও বিমানবন্দরে অবস্থানরত বেসামরিক মানুষ আহত হন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত পৃথক হামলায় এক সুদানি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে। সেখানে সৌদি আরবের পাঁচজন নাগরিকসহ মোট আটজন বাসিন্দা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। রিয়াদের মতো সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ধরনের হামলায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল খাতে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জিএসিএ তাদের প্রকাশিত বিবৃতিতে আরো নিশ্চিত করেছে, বিমানবন্দরে উপস্থিত যাত্রী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সমস্ত বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সাথে জরুরি যোগাযোগ বজায় রেখে যৌথভাবে সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

আক্রান্ত দুটি বিমানবন্দরে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করার পাশাপাশি ভৌত অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করার কাজ চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দলগুলো। সংবেদনশীল টার্মিনাল এলাকা ও রানওয়ের নিরাপত্তা পর্যালোচনার পর ফ্লাইট চলাচলের সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। যাত্রী সাধারণ ও প্রবাসী কর্মীদের গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশনাবলি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হামলার পরপরই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের প্রাতিষ্ঠানিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি এক সংবাদ সম্মেলনে সামরিক জোরদার পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রিয়াদের উত্তর আকাশে ধেয়ে আসা একটি আকাশপথের হুমকি শনাক্ত করে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি আরও জানান, রাজধানী রিয়াদে হামলা চালাতে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি সুনির্দিষ্ট স্থান ব্যবহার করেছিল। স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা নজরদারির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জোট বাহিনীর যুদ্ধবিমান সানার সেই লঞ্চিং প্যাডটিতে সফলভাবে বিমান হামলা চালিয়ে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।

ইয়েমেনে বহু বছর ধরে চলা সংঘাতের ধারাবাহিকতায় বেসামরিক বিমান অবকাঠামোর ওপর এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোসহ বাণিজ্যিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে।

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাসমূহের কাছে এমন সংঘাতের খবরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক উৎকণ্ঠা। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খবর প্রকাশের পরপরই বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আকাশপথের পরিবহন ব্যবস্থা বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখোমুখি হবে।

একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কোটি কোটি প্রবাসী শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই অঞ্চলে তাদের নিয়মিত ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা রক্ষায় এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধের জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

Logo