Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুতির হামলা, আহত ৩

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুতির হামলা, আহত ৩

সৌদি আরবের ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন জাজান ও নাজরান বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় উভয় বিমানবন্দরের কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আহত তিনজনের অবস্থা গুরুতর নয়। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার রাতে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী দাবি করে, তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।

গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, জাজান ও নাজরানের পাশাপাশি রাজধানী রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং লোহিত সাগর উপকূলবর্তী রাবিগে অবস্থিত অ্যারামকোর একটি তেল শোধনাগারও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এসব হামলার সবকটির ক্ষয়ক্ষতি বা সফলতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

এদিকে হামলার জবাবে ইয়েমেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। লক্ষ্য হচ্ছে লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দর এবং বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশের এলাকা পুনরুদ্ধার করা।

সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, সরকারি বাহিনীকে সহায়তা দিতে জোটের ১০০টি যুদ্ধবিমান অভিযানে অংশ নিচ্ছে।

তার ভাষ্য, বাব-এল-মান্দেব প্রণালী এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থল অভিযানেও সরকারি বাহিনীকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তবে মোখা শহরের নিয়ন্ত্রণ হারানোর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হুতি গোষ্ঠী। তাদের দাবি, তারা এখনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলো ধরে রেখেছে।

সাম্প্রতিক হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরো জোরদার করছে রিয়াদ। সৌদি আরব জানিয়েছে, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোর সুরক্ষায় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন সংঘাত ঘিরে চলমান উত্তেজনা এখন আবারো সৌদি ভূখণ্ডে সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যপথের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

Logo