Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

আমিরাতে বেতন দিতে দেরি করলে কঠোর সাজা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫৯

আমিরাতে বেতন দিতে দেরি করলে কঠোর সাজা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মীদের বেতন পরিশোধে দেরি করলে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয় (মোহরে)।

তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ ও সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। সরকারের ভাষ্য, এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং কর্মীদের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

মোহরে জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্তে নিয়োগকর্তাদের জন্য অতিরিক্ত কোনো নতুন বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি। বরং বিদ্যমান মজুরি সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ, মানসম্মত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের আওতায় প্রথমে ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বেতন পরিশোধের তথ্য যাচাই করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বেতন পরিশোধে বিলম্ব ধরা পড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশন ও সতর্কবার্তা পাঠানো হবে।

এরপরও সমস্যা সমাধান না হলে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের মতে, এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো শুরুতেই সমস্যা শনাক্ত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করা। এতে শ্রমিকদের পাওনা বেতন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, আগাম হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সুস্থ কর্মসম্পর্ক গড়ে তোলাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

বিশেষ করে শ্রমঘন খাতগুলোর ওপর নজরদারি আরো বাড়ানো হবে। এর মধ্যে নির্মাণ, পরিবহন, নিরাপত্তা সেবা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মোহরে জানিয়েছে, প্রতিটি খাতের ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যেসব খাত শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতায় বেশি প্রভাব ফেলে, সেসব ক্ষেত্রেই বেশি নজরদারি থাকবে।

দেশটির মজুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে প্রতি মাসে ৩৭ বিলিয়ন দিরহামের বেশি বেতন পরিশোধ প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। ফলে এটি আমিরাতের শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বেতন পরিশোধে বিলম্ব রোধে আরো কার্যকর নজরদারি চালু হলে কর্মীদের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোও সময়মতো বেতন পরিশোধে আরো সচেতন হবে।

মোহরের ভাষ্য, সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত কর্মীদের সুরক্ষা আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতেও সহায়তা করবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক মেধাবী কর্মীদের কাছে আমিরাতের শ্রমবাজারকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কর্মীদের বেতন পরিশোধে স্বচ্ছতা ও নিয়মিততা নিশ্চিত করা বিদেশি কর্মীদের আস্থা ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণে আমিরাত সরকারের আরো একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Logo