ওমান মানব পাচার প্রতিরোধে নতুন আইন ও কর্মসূচি চালু করেছে। সম্প্রতি জারি হওয়া রয়্যাল ডিক্রি অনুযায়ী মানব পাচারের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ ওমানি রিয়াল জরিমানা। শিশু বা সংঘবদ্ধ অপরাধ জড়িত থাকলে শাস্তি আরো বাড়বে।
নতুন আইনে মানব পাচারের সংজ্ঞা বিস্তৃত করা হয়েছে। দাসত্ব, জবরদস্তি, জোরপূর্বক শ্রম, সেবাদাসত্ব; সবই এখন মানব পাচারের আওতায় পড়বে। এমনকি কারো পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংস করাও স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। দেওয়া হবে আইনি, মানসিক ও চিকিৎসা সহায়তা। কিছু ক্ষেত্রে বাসস্থান ও শ্রমসংক্রান্ত ফি ও জরিমানা থেকেও ছাড় দেওয়া হবে। ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক করানো কাজের দায় আরোপ করা হবে না।
জাতীয় মানব পাচারবিরোধী কমিটি ‘আমান’ নামে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করেছে। তিন মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে সোশ্যাল মিডিয়া, কর্মশালা ও প্রদর্শনী ব্যবহার করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষকে মানব পাচার সম্পর্কে সচেতন করা, নিরাপদে অভিযোগ জানানোর পথ দেখানো এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
২০২৫ সালে ওমান ৩৯টি মানব পাচারের মামলা মোকাবিলা করেছে। একই সময়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৪ হাজারের বেশি। জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা ঘটেছে ২৬টি এবং নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে ৮টি। এসব পরিসংখ্যান দেখায়, সমস্যাটি কতটা গভীর এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া কতটা জরুরি।
মানব পাচার সংক্রান্ত সন্দেহজনক কোনো ঘটনা হলে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। রয়্যাল ওমান পুলিশের হটলাইন নম্বরও দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত অভিযোগ জানাতে পারে।
logo-1-1740906910.png)