Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

সৌদিতে যুদ্ধ; সংকটে বাংলাদেশ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯

সৌদিতে যুদ্ধ; সংকটে বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইয়েমেনে সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহীদের সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে হুতিদের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরো বেড়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এ সংকট বড় চিন্তার কারণ। সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। বর্তমানে সেখানে ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত। শুধু ২০২৫ সালেই প্রায় ৭ লাখ ৫৫ হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরবে গেছেন। দেশটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স উৎসও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি থেকে এসেছে ৫.৮৫ বিলিয়ন ডলার।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নির্মাণ ও সেবা খাতে প্রকল্পের গতি কমতে পারে। নতুন কর্মী নিয়োগ কমে যেতে পারে। বিদ্যমান শ্রমিকদের আয়ও সংকুচিত হতে পারে। এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ ব্যাহত হবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়বে। সিপিডির ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, কভিডের সময় যেমন শ্রমের চাহিদা কমে গিয়েছিল, এবারো একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি খাতেও ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে আসে সাড়ে সাত লাখ টন অপরিশোধিত তেল। ড্রোন হামলায় সৌদির তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউরোপে সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। বাংলাদেশে এখনো সংকট দেখা না দিলেও যুদ্ধ দীর্ঘ হলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও পরিবহন খরচও বাড়বে।

সৌদি অর্থনীতিও চাপের মুখে। তেল উৎপাদন আগস্টে নেমে এসেছে দৈনিক ৬২ লাখ ব্যারেলে, যা তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাজেটে ঘাটতি বেড়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় কমাতে হতে পারে। এতে নতুন কর্মসংস্থান কমবে। প্রবাসী ব্যবসায়ীরাও চাপে পড়েছেন। জেদ্দায় ব্যবসায়ী নুরুল আফসার বলেছেন, হামলার পর দোকানে ক্রেতা কমে গেছে, আয় দিয়ে নিয়মিত খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ সৌদি বিনিয়োগ আকর্ষণে তৎপর। বন্দর খাতে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে সৌদি প্রতিনিধি দল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দীর্ঘ হলে এসব পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেছেন, সংঘাত বিস্তৃত হলে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। প্রয়োজনে তাদের সরিয়ে আনতে হতে পারে। এতে রেমিট্যান্স কমে যাবে। দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ আরো বড় আকার ধারণ করছে। হুতিরা একের পর এক এলাকা দখল করছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনই সরাসরি জড়াতে চাইছে না। ফলে সৌদির পক্ষে এককভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন। দক্ষিণাঞ্চলে প্রচুর বাংলাদেশি কাজ করেন। সেখানে পরিস্থিতি অবনতি হলে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া বা দেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে।

Logo