Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

আমিরাতে সাড়ে চার হাজার ভিসা বাতিল; বিপাকে প্রবাসীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬

আমিরাতে সাড়ে চার হাজার ভিসা বাতিল; বিপাকে প্রবাসীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাত হঠাৎ করেই চার হাজারের বেশি বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করেছে। ফলে ছুটিতে দেশে এসে অনেকেই আর কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। ভিসা বাতিলের কোনো কারণ জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে আমিরাতকে জানিয়েছে এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে। বিপাকে পড়া প্রবাসীরা সমস্যা সমাধানে সরকারকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।

দেশে ফেরার পর অনেকেই ই-মেইল বা মোবাইল ফোনে বার্তা পেয়ে ভিসা বাতিলের খবর জানতে পারেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনি সমস্যা নেই। তবুও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ নামের এক প্রবাসী জানান, তিনি ২৭ বছর ধরে আমিরাতে ছিলেন। ছুটিতে দেশে এসে হঠাৎ ই-মেইলে জানতে পারেন তার ভিসা বাতিল হয়েছে। তিনি বলেন, “ই-মেইলে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।”

৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা সমাধানের দাবিতে সমাবেশ করেন। সেখানে প্রায় ৩৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। তারা পাঁচ দফা দাবি জানান। এর মধ্যে রয়েছে পুনর্বাসন, সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা এবং অন্য দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, বিষয়টি তার মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানে। তিনি লিখেছেন, অনেকের আমিরাতে ব্যবসা ও দোকান আছে। কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। পরে মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০০ জনে।

ক্ষতিগ্রস্তরা মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তারা চান, সরকার আমিরাত সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ বাড়াক।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ এম এস শেকিল চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আমিরাত যাচাই-বাছাই বাড়িয়েছে। সময়মতো ভিসা নবায়ন না করা বা কাগজপত্রে সমস্যা থাকলে তা কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারো কর্মকাণ্ডও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব কারণই সরাসরি দায়ী কিনা, তা নিশ্চিত নয়।

তিনি মনে করেন, সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ইউএইর যাচাই-বাছাইয়ের মাত্রা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের উচিত দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ আরো জোরদার করা।

Logo