Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

মক্কা চুক্তির পর সৌদির তেল স্থাপনায় হামলা, বড় সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:১৩

মক্কা চুক্তির পর সৌদির তেল স্থাপনায় হামলা, বড় সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য?

সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনে হামলার পর যদি রিয়াদ পাল্টা হামলা চালায়, তাহলে কি এবার হুতিদের সঙ্গে সংঘাত সরাসরি সৌদি-ইরান সংঘাতে রূপ নেবে? আর সেই যুদ্ধে যদি তুরস্ক ও পাকিস্তানও জড়িয়ে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

এরই মধ্যে ইয়েমেনে হুতি ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সাম্প্রতিক লড়াইয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গত কয়েক দিনে হুতিরা মোখা বন্দর ও কৌশলগত মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় বাব আল-মানদেব ঘিরে উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ East-West oil pipeline-এ ইরাক থেকে ড্রোন হামলা হয়েছে। হামলার পর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে রিয়াদ। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে সৌদি আরব আপাতত পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে রিয়াদ স্পষ্ট করেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

এখানেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- এটি কি বিচ্ছিন্ন হামলা, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি ফ্রন্ট খোলার ইঙ্গিত?

কারণ East-West pipeline সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পারস্য উপসাগর এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল নেওয়ার বিকল্প পথ। পাইপলাইনের সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত। ফলে এটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।

ইতোমধ্যে ব্রেন্ট তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। যদি পাইপলাইন, হরমুজ প্রণালী এবং বাব আল-মানদেব; তিনটি রুটই দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে তেলের দাম আরো দ্রুত বাড়তে পারে। ১১০-১২০ ডলার বা তার ওপরে যাওয়ার ঝুঁকিও তখন উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর, নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তির ফলে কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশের ওপরও নিরাপত্তাগত দায়িত্ব তৈরি হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে তুরস্ক বা পাকিস্তান সঙ্গে সঙ্গে সামরিক যুদ্ধে নামবে।

পাকিস্তান সম্ভবত প্রথমে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দেবে।তুরস্কও সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার আগে কূটনৈতিক সমাধান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতার চেষ্টা করবে। কিন্তু সৌদি ভূখণ্ডে হামলা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য বার্তা কী?

এ মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশিদের সামরিক স্থাপনা, তেল স্থাপনা ও সংঘাতপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। দূতাবাস ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

কারণ যুদ্ধ শুধু মানুষের নিরাপত্তা নয়, চাকরি, পরিবহন, খাদ্যপণ্য, ব্যবসা এবং প্রবাসীদের জীবনযাত্রার খরচেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, সৌদি আরব এখনো সংযম দেখাচ্ছে। কিন্তু যদি পাল্টা হামলা শুরু হয় এবং মক্কা চুক্তি সক্রিয় হয়ে যায়, তাহলে এটি আর শুধু সৌদি-হুতি সংঘাত থাকবে না; তখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোই বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে।

Logo