বাহরাইনে অভিনব কৌশলে মাদক পাচার ও বিক্রির দায়ে এক এশীয় নাগরিককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হাই ক্রিমিনাল কোর্ট অব আপিল আগের রায় বহাল রেখে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার বাহরাইনি দিনার জরিমানা, সাজা শেষে দেশ থেকে বহিষ্কার এবং জব্দ করা মাদক ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও বহাল রেখেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা একই দেশের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাহরাইনে মাদক বিক্রির নেটওয়ার্কে যুক্ত হন। বিদেশ থেকে পাচার হয়ে আসা মাদক এবং খালি কনটেইনার সংগ্রহ করে তিনি সেগুলো ছোট ছোট পরিমাণে ভাগ করতেন এবং নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিতেন, যাতে ক্রেতা বা নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যরা সেগুলো সংগ্রহ করতে পারে। মাদক পাচারের এই কৌশলটিই ‘ডেড ড্রপ’ নামে পরিচিত। বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশির সময় সন্দেহজনক একটি ডাকযোগে আসা প্যাকেট শনাক্ত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি শুরু করে এবং প্যাকেটটি গ্রহণ করতে আসা অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছে ও প্যাকেট থেকে বিপুল পরিমাণ তরল মাদক, মাদক ব্যবহারের ও বিতরণের জন্য প্রস্তুত বিভিন্ন কনটেইনার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
তদন্তে আরো উঠে আসে, একটি ইউরোপীয় দেশ থেকে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ডাকযোগে মাদক বাহরাইনে আনা হতো এবং পরে নেটওয়ার্কের সদস্যদের মধ্যে তা ভাগ করে বিভিন্ন স্থানে ‘ডেড ড্রপ’ পদ্ধতিতে সরবরাহ করা হতো। অভিযুক্ত নিজেও মাদকের একটি অংশ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রাখতেন বলে তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে মাদক বিক্রির সঙ্গে সম্পর্কিত কথোপকথন, ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাদক বিক্রির কথা স্বীকার করেন। সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আপিল আদালত তার ১৫ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা, সাজা শেষে বহিষ্কার এবং জব্দ করা সামগ্রী বাজেয়াপ্তের আদেশ বহাল রাখেন।
logo-1-1740906910.png)