মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাহরাইনে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটে ৭ প্রবাসীর স্থায়ী বহিষ্কার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৬
বাহরাইন
বাহরাইনে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটে ৭ প্রবাসীর স্থায়ী বহিষ্কার
বাহরাইনে অস্তিত্বহীন বা ভুয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ ও ধরে রাখার দায়ে সাত এশীয় প্রবাসীকে বড় অঙ্কের জরিমানা এবং দেশ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, বাস্তবে অস্তিত্ব নেই- এমন বহু ভুয়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করে তারা বিদেশি কর্মীদের জন্য বিপুলসংখ্যক ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করেছিলেন। যদিও এসব কর্মী নিয়োগের কোনো প্রকৃত প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ছিল না। বিষয়টি সামনে আসে বাহরাইনের লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি বা এলএমআরএর নিয়মিত পরিদর্শন অভিযানের মাধ্যমে। শ্রমবাজারের আইন ও বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠান ও ওয়ার্ক পারমিটের তথ্য পান এবং পরে বিষয়টি পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে পাঠানো হয়। তদন্তে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ, সাক্ষীদের বক্তব্য, বিভিন্ন নথি ও কারিগরি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। পরে নিম্ন ফৌজদারি আদালত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে তাদের ওপর সম্মিলিতভাবে দুই লাখ ১১ হাজার বাহরাইনি দিনার জরিমানা আরোপ করেন এবং জরিমানা পরিশোধের পর তাদের বাহরাইন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে বলেছেন, শ্রমবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ড এবং বাণিজ্যিক নিবন্ধন ও ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে পাবলিক প্রসিকিউশন কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।
সৌদি আরব
সৌদিতে রিয়েল এস্টেট খাতে নতুন নিয়ম অমান্যে শাস্তি
সৌদি আরবে রিয়েল এস্টেট খাতে নিয়ম ভাঙলে এবার কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে ব্রোকার ও সেবা প্রদানকারীদের। দেশটির রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি, আরইজিএ, সতর্ক করে জানিয়েছে, বৈধ লাইসেন্স ছাড়া রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করা, সম্পত্তির মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করা কিংবা বিজ্ঞাপনে প্রতিষ্ঠানের নাম ও লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ না করার মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুতর বা পুনরাবৃত্তি হওয়া লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শুধু জরিমানা নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলও হতে পারে। আর জরিমানা হতে পারে সর্বোচ্চ দুই লাখ সৌদি রিয়াল। কর্তৃপক্ষের এই সতর্কতার পেছনে মূল লক্ষ্য হলো সৌদির দ্রুত বিকশিত রিয়েল এস্টেট বাজারে প্রতারণা ও অনিয়ম কমানো এবং ক্রেতা ও ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা। সম্প্রতি বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত যৌথ পরিদর্শনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়ার পর এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আরইজিএ বলছে, শুধু ব্যবসায়ীদেরই নয়, নাগরিক ও বাসিন্দাদেরও সন্দেহজনক রিয়েল এস্টেট লেনদেন বা প্রতারণার ঘটনা কর্তৃপক্ষকে জানানোর সুযোগ রয়েছে। ফলে সৌদিতে বাড়ি, ফ্ল্যাট বা অন্য কোনো সম্পত্তি কেনাবেচা কিংবা ভাড়ার ক্ষেত্রে এখন লাইসেন্সধারী ব্রোকার ও অনুমোদিত বিজ্ঞাপন যাচাই করা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
আমিরাতে ডিজিটাল ওয়ার্ক পারমিট সেবা চালু
বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া আরো সহজ ও দ্রুত করতে নতুন ডিজিটাল ওয়ার্ক পারমিট সেবা চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয়, মোহরে জানিয়েছে, এখন মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা কর্মীদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারবে। এর ফলে বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আগে যেসব প্রশাসনিক ধাপ, কাগজপত্র ও আলাদা প্রক্রিয়ার কারণে সময় বেশি লাগত, সেগুলো অনেকটাই সহজ ও সমন্বিত হবে। নিয়োগকর্তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কর্মীর জন্য প্রয়োজনীয় ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করতে পারবেন এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও নিয়োগসংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলোও একই ব্যবস্থার আওতায় সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে। আমিরাত সরকারের বৃহত্তর ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে শ্রমবাজারের সেবা আরো ডিজিটাল, দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব করার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমিরাতে চাকরির জন্য আসতে যাওয়া কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় ও জটিলতা কমতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সেবা মূলত বৈধভাবে মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত নিয়োগকর্তাদের জন্য; অর্থাৎ চাকরিপ্রার্থীদের কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি বা দালালের মাধ্যমে নয়, বৈধ নিয়োগকর্তা ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগোনো উচিত।
কুয়েত
বিভিন্ন খাতে নিয়ম কঠোর করল কুয়েত
কুয়েতে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকাতে স্বর্ণ, মূল্যবান ধাতু এবং রিয়েল এস্টেট খাতে নতুন করে কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ওসামা খালেদ বুদাইয়ের জারি করা নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বর্ণ ও মূল্যবান পাথরের ব্যবসায়ীদের এখন গ্রাহক এবং প্রকৃত মালিকানা বা ‘বেনিফিশিয়াল ওনার’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা, ঝুঁকি অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ এবং কর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্বও ব্যবসায়ীদের ওপর দেওয়া হয়েছে। রিয়েল এস্টেট ব্রোকার ও মধ্যস্থতাকারীদের জন্যও একই ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কোনো সম্পত্তি কেনাবেচা বা লেনদেনের পেছনে প্রকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে এবং সন্দেহজনক কোনো লেনদেন পাওয়া গেলে তা কুয়েত ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে জানাতে হবে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের লেনদেন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করতে হবে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো স্বর্ণ ও সম্পত্তির মতো বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয় এমন খাতকে ব্যবহার করে যাতে কেউ অবৈধ অর্থ বৈধ করার সুযোগ না পায়। নতুন নিয়মের ফলে ব্যবসায়ীদের শুধু লেনদেন সম্পন্ন করলেই হবে না, বরং কার সঙ্গে ব্যবসা করছেন, অর্থের উৎস কী এবং লেনদেনটি অস্বাভাবিক কিনা- এসব বিষয়েও বাড়তি নজর দিতে হবে।
logo-1-1740906910.png)