মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ২৮ আগস্ট ২০২৬
দুবাইয়ে শেয়ারড হাউজিং নিয়ে নতুন আইন কার্যকর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৫১
বাহরাইন
ঈসা টাউনের পার্ক সংস্কার ৯০% সম্পন্ন, থাকছে সবুজায়ন ও আধুনিক সুবিধা
বাহরাইনের ঈসা টাউনের ব্লক ৮০৯-এর পার্কটির বড় ধরনের সংস্কারকাজের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দীর্ঘদিন বন্ধ ও সীমিত ব্যবহারের কারণে পার্কটি অনেকটাই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। তাই এটিকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পরিবারবান্ধব বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে এই উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশটির পৌরসভা ও কৃষিবিষয়ক মন্ত্রী ওয়ায়েল আল মুবারক সম্প্রতি পার্কটি পরিদর্শন করে জানান, ৭ হাজার ৫৫১ বর্গমিটার আয়তনের পার্কটির কাজ চলতি বছরের শেষ দিকে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৪৩০ বর্গমিটারের শিশুদের খেলার জায়গা, ১ হাজার ৮৯০ মিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ, ৪ হাজার ৩৮ বর্গমিটার সবুজায়ন, ২১০টি গাছ রোপণ এবং ৪০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরো বলেন, এ প্রকল্প দক্ষিণ গভর্নরেটের জনসেবা ও বিনোদন সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও সবুজায়নে ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলও প্রকল্পটির প্রশংসা করে জানিয়েছে, নতুন পার্কের নকশা দর্শনার্থীদের চলাচল সহজ করবে এবং পার্কিং সুবিধার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমবে। কর্তৃপক্ষের মতে, সংস্কারের পর পার্কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আরো সুন্দর, সবুজ ও পরিবারবান্ধব একটি বিনোদনস্থলে পরিণত হবে।
সৌদি আরব
সৌদি সরকারের নতুন প্রকল্প, লাগানো হবে ২১ কোটি গাছ
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের World Restoration Flagships Award পেয়েছে সৌদি আরব। মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণবিরোধী কনভেনশনের ১৭তম অধিবেশনের এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দেশটির জাতীয় গ্রিনিং প্রোগ্রামের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। জাতিসংঘের স্বীকৃতি পাওয়া সৌদি উদ্যোগের আওতায় ইতোমধ্যে ১৫ কোটি ৯০ লাখের বেশি গাছ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি খরা, মরুকরণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে। সৌদি পরিবেশ, পানি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রহমান আল-ফাদলি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং আরো টেকসই ও সহনশীল পরিবেশ তৈরি করা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। ২০৩০ সালের মধ্যে সৌদি আরব ২৫ লাখ হেক্টরের বেশি জমি পুনরুদ্ধার এবং ২১ কোটি ৫০ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে দেশটির পরিকল্পনা হলো ৪ কোটি হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধার ও ১০ বিলিয়ন গাছ লাগানো। এ কর্মসূচিতে পুনঃবনায়ন, প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভিদ পুনরুদ্ধার, নিয়ন্ত্রিত পশুচারণ, বন্যপ্রাণী পুনঃপ্রবর্তন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং পানির সংকটপূর্ণ এলাকায় পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহারের মতো উদ্যোগ রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
দুবাইয়ে শেয়ারড হাউজিং নিয়ে নতুন আইন কার্যকর
দুবাইয়ে শেয়ারড হাউজিং বা যৌথ আবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। ২৬ আগস্ট থেকে কার্যকর নতুন আইন অনুযায়ী, অতিরিক্ত লোক রাখা, অনুমতি ছাড়া শেয়ারড হাউজিং পরিচালনা এবং নিয়ম না মেনে বাসা ভাড়া দেওয়ার মতো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ৫ লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে; একই অপরাধ এক বছরের মধ্যে আবার করলে জরিমানা দ্বিগুণ হয়ে সর্বোচ্চ ১০ লাখ দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। নতুন নিয়মে ভাড়াটিয়ারা নিজেরা শেয়ারড বাসা বা বাসার কোনো অংশ অন্যের কাছে সাবলেট দিতে পারবেন না। কেবল বাড়ির মালিক বা অনুমোদিত ও লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান শেয়ারড হাউজিং ভাড়া দিতে পারবে। এই আইন পরিবার, নারী, পুরুষ, নারী শিক্ষার্থী, পুরুষ শিক্ষার্থী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মতো নির্ধারিত শ্রেণির বাসিন্দাদের জন্য প্রযোজ্য। তবে আইন কার্যকর হলেও এখনই অভিযান বা উচ্ছেদ শুরু হচ্ছে না। বাড়ির মালিক ও অপারেটরদের নতুন নিয়ম মেনে নেওয়ার জন্য ২৬ আগস্ট ২০২৭ পর্যন্ত এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে এই সময় আরো বাড়ানো যেতে পারে। আইন অনুযায়ী, কোনো বাড়ি নিয়ম না মানলে সরাসরি রাতারাতি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হবে না; প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষ বিকল্প বাসা খুঁজে নেওয়ার জন্য বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট সময় দেবে। এ সময় বাড়তি সতর্ক থাকতে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও।
কুয়েত
কুয়েতে নোটিশ ছাড়াই চাকরি ছাড়ার সুযোগ
এখন থেকে কুয়েতে বেসরকারি খাতের কর্মীরা নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে আগাম নোটিশ ছাড়াই চাকরি ছাড়তে পারবেন এবং একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী এন্ড-অব-সার্ভিস সুবিধাও পাওয়ার অধিকার বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার। ‘নো ইওর রাইটস’ প্রচারণার অংশ হিসেবে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তা চাকরির চুক্তি বা শ্রম আইন লঙ্ঘন করলে, কর্মী বা নিয়োগকর্তার প্রতিনিধির হাতে শারীরিকভাবে আক্রান্ত হলে কিংবা কর্মীর স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হলে নির্দিষ্ট আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নোটিশ ছাড়াই চাকরি ছাড়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া কর্মীর মৃত্যু, দায়িত্ব পালনে স্থায়ীভাবে অক্ষমতা প্রমাণিত হওয়া, আইন অনুযায়ী অসুস্থতাজনিত ছুটি শেষ হয়ে যাওয়া, প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা আদালতের চূড়ান্ত রায়ে নিয়োগকর্তা দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতেও চাকরির চুক্তি আইন অনুযায়ী শেষ হতে পারে। অন্যদিকে আইন নির্ধারিত পরিস্থিতিতে নিয়োগকর্তারও কর্মীর চাকরি শেষ করার অধিকার রয়েছে; অনির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নোটিশ দিতে হয়, তবে গুরুতর কিছু ঘটনায় নোটিশ ছাড়াই বরখাস্ত করা যেতে পারে। কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে জানিয়েছে, কোনো কর্মী যদি মনে করেন তাকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তাহলে তিনি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।
logo-1-1740906910.png)