চলতি বছরের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলে দেশত্যাগের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন বছরে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছেন। এদের অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত ও ধনী শ্রেণির নাগরিক।
কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশ ছেড়েছেন ৮৬ হাজার ৫০০ জন, ২০২৪ সালে ৯১ হাজার ৫০০ জন এবং গত বছরও প্রায় একই সংখ্যক নাগরিক দেশত্যাগ করেছেন। এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে ‘দেশত্যাগের সুনামি’ বলে অভিহিত করেছেন পার্লামেন্টের অভিবাসন বিষয়ক কমিটির প্রধান ও বিরোধী দলের নেতা গিলাদ কারিভ। তার মতে, সংকট সমাধানে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
ইসরায়েলি কর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকার যত বেশি ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছে, তত বেশি উচ্চশিক্ষিত ও ধনী ইসরায়েলিরা দেশ ছাড়ছেন। তাদের মতে, চিরচেনা ইসরায়েল আর আগের মতো নেই। উদারপন্থি নাগরিকরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার দেশকে কট্টরপন্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছে।
নিজেদের উদারপন্থি হিসেবে পরিচয় দেওয়া অনেক ইসরায়েলি ধনী নাগরিক নেতানিয়াহুকে দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের নীতির কারণে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ বদলে গেছে। ফলে তারা নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশত্যাগের এই প্রবণতা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বিরোধী দল বলছে, সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে ইসরায়েলের অর্থনীতি ও সমাজে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
logo-1-1740906910.png)