Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

দেশে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহী আমিরাত প্রবাসীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৪

দেশে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহী আমিরাত প্রবাসীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দেশে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ১৭ আগস্ট রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ সিআইপি-বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন’-এর সদস্যরা এ তথ্য জানান।

সংগঠনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগ মূলত ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংকিং, ড্রাই ফুড প্রসেসিং ও প্যাকেজিং, ই-রেন্টাল সেবা, সোলার প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে করা হবে।

প্রবাসী উদ্যোক্তারা বলেন, বিনিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়নে সহজ অনুমোদন প্রক্রিয়া, জমি বা লিজ সুবিধা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং ওয়ান-স্টপ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তারা মনে করেন, এসব সুবিধা পেলে দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ আরও বাড়বে এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে মূলধন সংকটে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের চারটি শাখা চালু রাখতে সরকার সহযোগিতা চাইলে সংগঠনের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কর্মীদের দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। তারা জানান, প্রায় ১২ বছর ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের অভ্যন্তরীণভাবে মালিক পরিবর্তনের (চেঞ্জ অব স্ট্যাটাস) সুযোগ নেই। ফলে অনেক কর্মী কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তারা বাংলাদেশ ও আমিরাত সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সুযোগ পুনর্বহালের দাবি জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা বাতিলের কারণে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশে আটকে পড়েছেন। তাদের অনেকেরই আমিরাতে চাকরি, ব্যবসা ও পরিবার রয়েছে। উদ্যোক্তারা বলেন, আটকে পড়া এসব প্রবাসীর তালিকা তৈরি করে আমিরাত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের পুনরায় কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ করে দিতে হবে। এজন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রবাসীদের সেবা আরো কার্যকর করতে দূতাবাস ও কনস্যুলেটে দক্ষ, অভিজ্ঞ, অরাজনৈতিক ও প্রবাসীবান্ধব কর্মকর্তা নিয়োগের ওপর জোর দেন উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার জরুরি হেল্পলাইন, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থা এবং প্রতিটি জেলায় ‘প্রবাসী সহায়তা সেল’ গঠনের প্রস্তাব দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে মোট ১৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ভিসা জটিলতা নিরসন, বিদেশ যাওয়ার আগে ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ, সবার জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ ইস্যু, স্থানীয় আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ, মৃত প্রবাসীর মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা, জেলা পর্যায়ে বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা, রেমিট্যান্স প্রণোদনা বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী বিমান ভাড়া, বিনিয়োগ সুরক্ষা, সহজ ঋণ ও বীমা সুবিধা এবং সংকটকালে জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা।

সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ রুবেল জানান, তারা ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রবাসীদের উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। সরকারও এসব সমস্যার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

Logo