মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ১৫ আগস্ট ২০২৬
বাহরাইনে সাইবার ক্রাইম, চার এশিয়ানের শাস্তি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০৭
বাহরাইন
বাহরাইনে সাইবার ক্রাইম, চার এশিয়ানের শাস্তি
বাহরাইনে সাইবার জালিয়াতির মামলায় চার এশীয় নাগরিককে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির ফৌজদারি আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ হাজার বাহরাইনি দিনার জরিমানা করা হয়েছে। আদালত জব্দ করা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি সাজা শেষে চার আসামিকে দেশ থেকে বহিষ্কারেরও নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার সূত্রপাত হয় একটি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের পর। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, প্রতারকরা তাদের ই-মেইল ঠিকানা নকল করে একটি বার্তা পাঠিয়ে দাবি করে, সুবিধাভোগীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে। ই-মেইলটি আসল মনে করে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারকদের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করে। তদন্তে দেখা যায়, প্রতারকদের ব্যবহৃত ভুয়া ই-মেইল ঠিকানাটি প্রতিষ্ঠানের আসল ঠিকানা থেকে ডোমেইন নামের মাত্র একটি অতিরিক্ত অক্ষরের মাধ্যমে আলাদা ছিল, ফলে সেটিকে আসল ই-মেইল বলেই মনে হচ্ছিল। পরে পাবলিক প্রসিকিউশন তদন্ত শুরু করে অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে এবং আসামিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব শনাক্ত করে। কর্তৃপক্ষ চুরি যাওয়া অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করে তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দেয়। ডিজিটাল প্রমাণ, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজসহ তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে মামলায় আসামিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় পাবলিক প্রসিকিউশন ব্যাংক হিসাবের তথ্য বা অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়ে ই-মেইলে কোনো অনুরোধ এলে, তা ভালোভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে, যাতে এ ধরনের ইলেকট্রনিক জালিয়াতি প্রতিরোধ করা যায়। এশীয় বলা হলেও তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সৌদি আরব
মক্কায় কখন ভিড় কম থাকে, সেই সময় জানাল কর্তৃপক্ষ
ওমরাহ পালনে আগ্রহী মুসল্লিদের জন্য মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে কম ভিড়ের সময়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মসজিদ ও মসজিদে নববীর বিষয়ক জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, সাধারণত রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত এবং সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গ্র্যান্ড মসজিদে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে। এ সময়ে মুসল্লিরা মসজিদের মাতাফ এলাকায় কাবা শরিফ তাওয়াফ এবং মাসআ এলাকায় সাফা-মারওয়ার মধ্যে সাঈ তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পন্ন করতে পারেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ভিড়ের মাত্রা মাঝারি থাকে। আর বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সময়টি সবচেয়ে ব্যস্ত থাকে। তাই ওমরাহযাত্রীদের আগে থেকেই সময় পরিকল্পনা করে কম ভিড়ের সময়ে ইবাদত ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, আগাম পরিকল্পনা করলে গ্র্যান্ড মসজিদের ভেতরে চলাচলে ভিড় ও জট কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি কখন ওমরাহর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সুবিধাজনক হবে, তা নির্ধারণের আগে মুসল্লিদের উপলব্ধ ডিজিটাল সেবা এবং সরাসরি ভিড়ের ঘনত্ব দেখানোর ব্যবস্থা ব্যবহার করে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
আবুধাবিতে শ্রমিক বাস চলাচলে নতুন নির্দেশনা
আমিরাতের আবুধাবিতে যানজট কমানো ও সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে ৫০ আসনের শ্রমিকবাহী বাসের চলাচলে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আবুধাবি মোবিলিটি। আগামী ১৭ আগস্ট সোমবার থেকে এসব বাসকে মাফরাক ব্রিজের E328B এক্সিট ব্যবহার করে E22 আবুধাবি-আল আইন সড়কে আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ইন্টিগ্রেটেড ট্রান্সপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বাসগুলোকে বিকল্প হিসেবে ট্রাক ব্রিজের এক্সিট ব্যবহার করে আল রাওদাহ স্ট্রিটের E30 সড়কে যেতে হবে এবং সেখান থেকে মাফরাক ওয়ার্কার্স সিটির দিকে এগোতে হবে। নতুন এই রুট ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই এলাকায় যান চলাচল আরো স্বাভাবিক ও নিরাপদ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বাস অপারেটর ও চালকদের নির্ধারিত বিকল্প রুট অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে আবুধাবি মোবিলিটি।
কুয়েত
কুয়েতে বাংলাদেশি বাস ড্রাইভারের মৃত্যু
কুয়েতের জেলিব আল-শুয়ুখ এলাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে এক বাংলাদেশি বাসচালকের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় জানা গেছে, দুটি বাস পরপর দাঁড়ানো ছিল। সামনের বাসটির বাংলাদেশি চালক গাড়ি থেকে নেমে সেটির পেছনের অংশ পরীক্ষা করতে যান। এ সময় পেছনে থাকা বাসটি হঠাৎ পেছনের দিকে চলতে শুরু করলে তিনি দুই বাসের মাঝখানে আটকা পড়েন এবং গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ফারওয়ানিয়া ট্রাফিক বিভাগের ঘটনার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পেছনের বাসটি চালাচ্ছিলেন এক ভারতীয় নাগরিক। দুর্ঘটনার পর পুলিশ একটি মামলা নথিভুক্ত করেছে এবং পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশি বলা হলেও সেই চালকের নাম-পরিচয় জানানো হয়নি দেশটির কোনো গণমাধ্যমে।
ওমান
ওমানে দুই মাসের জন্য কিং ফিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
ওমানে সাময়িকভাবে কিং ফিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ওমানে এ বছর মাছ ধরার মৌসুমে কিং ফিশ বা স্থানীয়ভাবে ‘কানাদ’ নামে পরিচিত এই মাছ ধরার পাশাপাশি এর পরিবহন, বিক্রি, কেনা, মজুত ও বাণিজ্যের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির কৃষি, মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট ২০২৬ থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ওমানের সব উপকূলে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সামুদ্রিক মৎস্য আইনবিষয়ক নির্বাহী বিধিমালার আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে সব জেলে, মাছ পরিবহনকারী, মৎস্য খাতের কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিং ফিশের জীবনচক্রের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাছের মজুত রক্ষা এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এই মৌসুমি নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে মৎস্যবিষয়ক বিধিমালা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা ও শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
logo-1-1740906910.png)