সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি মারা গেছেন। এ সময় বেঁচে গেছেন একজন। এ খবর নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মাইগ্রেশন কনসার্নের হাতে আসা সাত সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখে যায়, প্রবল বাতাসের কারণে আগুন তেঁতে উঠছে, আকাশ ছেয়ে যায় কালো ধোঁয়ায়। সোফা কারখানাটিতে ১৭ জন কর্মী কাজ করতেন। সবাই ছিলেন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে একজন চুল কাটাতে কারখানার বাইরে যাওয়ায় বেঁচে যান। বেঁচে যাওয়া কর্মীর নাম হাবিবুর রহমান।
হাবিবুরের বরাত দিয়ে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানিয়েছেন, দুপুর দেড়টার দিকে চুল কাটানোর জন্য তিনি সেলুনে যান। ফিরে এসে দেখেন, কারখানায় আগুন জ্বলেছে। দেশটির ফায়ার সার্ভিস রোববার রাত ১১টায় আগুন নেভায়।
আগুন নিভলেও বন্ধ হয়নি প্রবাসী বাংলাদেশিদের হাহাকার আর আর্তনাদ। নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জনেরই বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। দুজনের বাড়ি পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গায়। অপরজনের বাড়ি আত্রাই লাগোয়া রাজশাহীর বাগমারায়।
আত্রাইয়ের নিহতরা হলেন উজন পই গ্রামের ফরিদ, ডুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন, গন্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের বজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলিমউদ্দিন, গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন ও সুমন; একই থানার মিনহাজ, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, নওগাঁ গ্রামের শাহিন; খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল, একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল, সাদনগর গ্রামের সাগর।
নলডাঙ্গার দুজন হলেন দিঘীরপাড় গ্রামের শামীম এবং খাজুরা গ্রামের সাকিব। আর রাজশাহীর বাগমারার যিনি মারা গেছেন, সেই শ্যামলের বাড়ি মরুগ্রামে।
গতকাল সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
তারা নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন এবং তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকের সময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
logo-1-1740906910.png)