মধ্যপ্রাচ্যের নিউজ আপডেট ৭ আগস্ট ২০২৬
সৌদি-বাংলাদেশ সম্পর্ক জনশক্তি খাতে নতুন সুযোগ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৭
বাহরাইন
বাহরাইনে রাত্রীকালীন কাজ নিয়ে বাসিন্দাদের নানা অভিযোগ
বাহরাইনে রাতভর নির্মাণকাজের জন্য ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশটির নাগরিক বাসিন্দারা। আর এ জন্য রাত ৯টার পর আবাসিক এলাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার দাবি উঠেছে। বাহরাইনের সাউদার্ন মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের সদস্য আহমেদ আল আবদুল্লাহ বলেছেন, আবাসিক এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত চলা নির্মাণকাজে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার অভিযোগ করেছে, রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলা নির্মাণকাজের শব্দে তারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। তার মতে, গ্রীষ্মকালে দিনের প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেক নির্মাণকাজ রাতে করা হলেও সেই সুবিধার জন্য আবাসিক এলাকার মানুষের শান্তি নষ্ট করা ঠিক নয়। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, কোনো প্রকল্প শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ঠিকাদারদের মধ্যে কাজের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করতে হবে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাত ৯টার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নিয়ম চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আহমেদ আল আবদুল্লাহ আরো বলেন, উন্নয়নমূলক কাজ অবশ্যই দ্রুত শেষ হওয়া উচিত। তবে সেই উন্নয়নের কারণে যদি মানুষের ঘুম, ব্যক্তিগত শান্তি ও পারিবারিক জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে সেটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সৌদি আরব
সৌদি-বাংলাদেশ সম্পর্ক জনশক্তি খাতে নতুন সুযোগ
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ আল-খুরেইজি ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো গভীর করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনশক্তি খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
আমিরাতে গৃহকর্মী নিয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানাল কর্তৃপক্ষ
আমিরাতের মানবসম্পদ ও আমিরাতীকরণ মন্ত্রণালয় গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গৃহকর্মী নিয়োগের জন্য দুটি বৈধ পদ্ধতি রয়েছে। প্রথমটি হলো লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ। এ ক্ষেত্রে এজেন্সি কর্মী নির্বাচন, ভিসা, মেডিকেল, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মী কাজে অযোগ্য হলে বা চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করলে বিকল্প কর্মী দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের নিশ্চয়তাও দিয়ে থাকে। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ডাইরেক্ট হায়ারিং। অর্থাৎ, নিয়োগকর্তা কোনো এজেন্সি ছাড়াই বিদেশ থেকে পরিচিত বা পছন্দের একজন গৃহকর্মীকে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে ভিসা, অনুমোদন এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়োগকর্তাকেই নিতে হবে। মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, গৃহকর্মী নিয়োগের আগে অবশ্যই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চুক্তিপত্র তৈরি করতে হবে। বেতন, ছুটি, কাজের ধরন এবং উভয় পক্ষের অধিকার ও দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ তৈরি না হয়। কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই অবৈধ দালাল বা অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গৃহকর্মী নিয়োগ না করতে। কারণ এতে প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি আইনি জটিলতায়ও পড়তে পারেন।
কুয়েত
৭০ বছর বয়সী প্রবাসী কর্মীদের ছাড়তে হবে কুয়েত
কুয়েতে ৭০ বছরের বেশি বয়সী বিদেশি শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন নীতির আওতায় ৭০ বছর পার হলে আর আকামা নবায়ন করা যাবে না। এসব বিদেশি শ্রমিককে কুয়েত ছাড়তে হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে কর্মরত হাজারো প্রবাসীকে নিজ দেশে ফিরতে হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শ্রমিকরা এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়েই শ্রমবাজারকে আরো কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশটির দাতব্য সংস্থাগুলোর জন্যও নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি আরো কঠোরভাবে তদারকি করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা যায়।কুয়েত সরকার মনে করছে, এই নীতির মাধ্যমে তরুণ ও দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ওপর চাপও কমবে। যদিও প্রবাসী সংগঠনগুলো এই নীতি বাস্তবায়নের ঘোরতর বিরোধিতা করেছেন।
logo-1-1740906910.png)