সৌদি আরব ওমরাহযাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করতে চলেছে, যা বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। আগামী ১ রবিউল আউয়াল থেকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও মিসরের ওমরাহযাত্রীদের ভিসা নিতে হলে প্রতিদিনের খাবারের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ‘নুসুক’ ফুড ভাউচার কিনতে হবে। প্রতিদিন প্রায় ২০ সৌদি রিয়াল খরচ হবে, যা ভিসার মোট ফির সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীদের সফরের মোট খরচ বাড়বে। উদাহরণস্বরূপ, ১০ দিনের সফরে একজন যাত্রীকে শুধু খাবারের জন্যই প্রায় ২০০ রিয়াল অতিরিক্ত দিতে হবে। পরিবারভিত্তিক সফরে এ খরচ আরও বেশি হবে। চার সদস্যের একটি পরিবার একই সময়ে গেলে তাদের খাবারের খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৮০০ রিয়াল। ফলে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে নতুন করে প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ওমরাহযাত্রীদের জন্য মানসম্মত ও সুশৃঙ্খল খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত সেবাদাতাদের নিরুৎসাহিত করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় হোটেল বুকিং, পরিবহন, খাবারসহ যাবতীয় সেবা একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমন্বিত হবে। এ লক্ষ্যে মক্কা ও মদিনার প্রায় ১০ হাজার রেস্তোরাঁকে নুসুক অ্যাপের আওতায় আনা হয়েছে।
ওমরাহযাত্রীদের ভিসার বিশেষ কোড ব্যবহার করে অনুমোদিত খাবারের দোকান থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হবে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং প্রতারণার ঝুঁকি কমবে। তবে প্রতিদিনের অতিরিক্ত খরচের কারণে বাজেট সীমিত যাত্রীদের জন্য চাপ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ ওমরাহ পালনে সৌদি আরব যান। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তাদের ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হবে। অনেক যাত্রী যারা আগে স্থানীয়ভাবে খাবার কিনে খরচ নিয়ন্ত্রণ করতেন, এখন বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট ভাউচার কিনতে হবে। এতে সফরের মোট ব্যয় বাড়লেও খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের এ পদক্ষেপ ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অংশ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবা সমন্বয় করলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ভ্রমণকারীরা প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকবেন। তবে বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অতিরিক্ত বাজেট পরিকল্পনা।
সৌদি সরকার মনে করছে, এ উদ্যোগের ফলে ওমরাহযাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরো উন্নত হবে। খাবার সরবরাহে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং অনুমোদিত রেস্তোরাঁগুলোতে ব্যবসার সুযোগ বাড়বে। কিন্তু বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য এটি মানে হলো ভিসার খরচের সঙ্গে প্রতিদিনের খাবারের ব্যয় আগেই পরিশোধ করতে হবে।
logo-1-1740906910.png)