Logo
×

Follow Us

মধ্যপ্রাচ্য

কুয়েতে ৭০ বছরের বেশি বয়সী শ্রমিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশনা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৩

কুয়েতে ৭০ বছরের বেশি বয়সী শ্রমিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশনা

কুয়েতে ৭০ বছরের বেশি বয়সী বিদেশি শ্রমিকদের দেশ ছাড়তে হবে- এমন নতুন নীতি ঘোষণা করেছে দেশটির সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। শ্রমবাজারে শৃঙ্খলা আনা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তরুণ প্রজন্মের জন্য উন্মুক্ত করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, যারা ইতোমধ্যেই ৭০ বছর বয়স অতিক্রম করেছেন, তাদের আকামা বা রেসিডেন্সি নবায়ন আর সম্ভব হবে না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে কুয়েত ত্যাগ করবেন। এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার শ্রমিকদের ওপর, যাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে কাজ করছেন।

কুয়েত সরকার বলছে, শ্রমবাজারে বয়সসীমা নির্ধারণের মাধ্যমে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য সুযোগ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কর্মদক্ষতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বয়স বেশি হলে কর্মীদের চিকিৎসা ব্যয় ও কর্মক্ষমতা কমে যায়, যা নিয়োগকর্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে।

এ নীতির পাশাপাশি দাতব্য সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়েও নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী জানিয়েছেন, দাতব্য সংগঠনগুলোকে এখন থেকে আরো৭ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অর্থের স্বচ্ছতা, কার্যক্রমের জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে নতুন বিধি কার্যকর হবে।

কুয়েতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিক কাজ করেন। নতুন নীতি কার্যকর হলে অনেক অভিজ্ঞ শ্রমিককে দেশে ফিরতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তে প্রবাসী পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে কাজ করা অনেক শ্রমিক হঠাৎ দেশে ফিরে গেলে তাদের পরিবারের আয় কমে যাবে।

তবে কুয়েত সরকার মনে করছে, এ পদক্ষেপ শ্রমবাজারে ভারসাম্য আনবে। তরুণ ও দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে চাপ কমবে।

প্রবাসী সংগঠনগুলো বলছে, হঠাৎ এ ধরনের সিদ্ধান্তে অনেক শ্রমিক বিপাকে পড়বেন। তারা চাইছেন, অন্তত কিছু সময়ের জন্য নীতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা হোক, যাতে শ্রমিকরা প্রস্তুতি নিতে পারেন।

Logo